আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
83 বার প্রদর্শিত
"ইসলাম শিক্ষা" বিভাগে করেছেন (525 পয়েন্ট)

মতন বলতে কী বুঝ?

বন্ধু নির্বাচন সম্পর্কে রাসুল (সঃ) কী বলেছেন?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (525 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

ব্যবসায়ী বশির সাহেব ক্রেতার কাছে চাল বিক্রি করেন। তিনি সঠিক ওজন করে চাল বিক্রি করেন। ক্রেতার কাছে পণ্যের দোষত্রুটি -গোপন করেন না। তার বন্ধু আলম মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করেন। অশ্লীল কথা-বার্তা বলেন। তার অশ্লীল আচার আচরণের জন্য লোকজন তাকে পরিহার করে চলেন।

ক. মতন বলতে কী বুঝ?

খ. বন্ধু নির্বাচন সম্পর্কে রাসুল (সঃ) কী বলেছেন?

গ. বশির সাহেবের কর্মকাণ্ডের পরকালীন প্রতিফল হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা কর।

ঘ. আলমের কর্মকাণ্ড পাঠ্যবইয়ের কোন হাদিসের প্রতিফলন ঘটেছে? বিশ্লেষণ কর।


প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) হাদিসের মূল বক্তব্য বা মূল বিষয়বস্তুর বর্ণনাকে বলা হয় মতন।


খ) বন্ধু নির্বাচন সম্পর্কে রাসুল (স) সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছেন।মানুষ সামাজিক জীব এবং এই সামজিকতার সূত্র ধরেই মানুষের জীবনে বন্ধু অপরিহার্য। একজন ভালো বন্ধু যে কারো জীবনে আশীর্বাদ বয়ে আনতে পারে। আবার একজন অসৎ খারাপ বন্ধু যে কারো জীবনে অভিশাপস্বরূপ। কারণ মানুষ প্রতিনিয়ত তার বন্ধুর দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর এ কারণেই মহানবি (স) বন্ধু নির্বাচনে আমাদেরকে ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছেন। তিনি উত্তম গুণাবলির (সততা, ধৈর্য্যশীলতা, ন্যায়পরায়ণতা প্রভৃতি) অধিকারীর সাথে বন্ধুত্ব করার নির্দেশ দিয়েছেন।


গ) পাঠ্যবইয়ে বর্ণিত সৎ ব্যবসায়ীর মর্যাদা সম্পর্কিত হাদিসের আলোকে বলা যায়, বশির সাহেব পরকালে উচ্চ মর্যাদায় আসীন হবেন। জীবিকা অর্জনের একটি উত্তম উপায় হলো ব্যবসা। অনেক মানুষই ব্যবসায়ের মাধ্যমে আয়-উপার্জন করেন। ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে একজন ব্যবসায়ী যদি সততা অবলম্বন করেন তবে তিনি সকলের নিকট প্রশংসিত হন। এমনকি পরকালে আল্লাহ তায়ালাও তাকে উত্তম প্রতিদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেন।উদ্দীপকের ব্যবসায়ী বশির সাহেব একজন সৎ লোক। তিনি ওজনে সবসময় সঠিক দেন এবং ক্রেতার নিকট কখনো পণ্যের দোষ-ত্রুটি গোপন করেন না। তার মতো সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য রাসুল (স) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ দিয়েছেন। রাসুল (স) বলেন, 'সত্যবাদী বিশ্বস্ত মুসলিম ব্যবসায়ী কিয়ামতের দিন শহিদদের সাথে থাকবেন।' (ইবনে মাজাহ) এখানে লক্ষণীয় যে, সৎ ব্যবসায়ীদেরকে শহিদদের সমান মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায় ইচ্ছা করলেই প্রতারণা করা যায়। এতে পার্থিব লাভ অনেক বেশি। কিন্তু বশির সাহেবের মতো যারা এই লোভকে সংবরণ করতে পারেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই বেশি মর্যাদার অধিকারী। এজন্য আল্লাহ পরকালে সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য উল্লেখিত পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, বশির সাহেবের মতো সকল সৎ ব্যবসায়ী পরকালে সর্বোত্তম প্রতিদান লাভ করবেন।


ঘ) আলমের কর্মকাণ্ডে পাঠ্যবইয়ের নিকৃষ্টতম অর্থাৎ অশ্লীল ব্যক্তি সম্পর্কিত হাদিসটির প্রতিফলন ঘটেছে।অশ্লীলতা আমাদের সমাজে কদর্য মানসিকতার নির্বিচার প্রকাশ। অগ্নীলতা হলো আচার-আচরণ বা কর্মকাণ্ডে ঔদ্ধত্য, কুরুচি, গর্ব- অহংকারের পরিচয় দেওয়া। এটি সমাজের এক ভয়ানক ব্যাধি। উদ্দীপকে আলমের চরিত্রে অশ্লীলতার দিকটিই প্রকাশ পেয়েছে, যা তাকে নিকৃষ্টতম ব্যক্তিতে পরিণত করেছে।হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্ণিত, রাসুল (স) ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার অশ্লীলতার আশঙ্কায় অন্যান্য মানুষ তাকে পরিত্যাগ করে। (বুখারি ও মুসলিম) এই হাদিসটিতে নির্লজ্জতার পরিচায়ক অশ্লীলতার ভয়ানক পরিণতির কথা বলা হয়েছে। এখানে অশ্লীলতাকে একটি ঘৃণিত পাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার অনিবার্য পরিণতি সামাজিকভাবে অপদস্ত হওয়া। কারণ অশ্লীল ব্যক্তিকে সবাই এড়িয়ে চলে। মুমিনরা তাকে পরিহার করে। এ থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না। উদ্দীপকের আলমের কর্মকাণ্ড বিচারে তার ক্ষেত্রে এই হাদিসটি সম্পূর্ণ প্রযোজ্য। কারণ আলম মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করে এবং অশ্লীল কথাবার্তা বলে। তার অশ্লীলতা থেকে বাঁচতে অন্যান্য মানুষ তার সঙ্গ পরিহার করে চলে। সুতরাং আলোচ্য হাদিসের আলোকে তাকে নিকৃষ্টতম ব্যক্তি বলা যায়। মূলত তার মতো মানুষেরা সমাজকে কলুষিত করে। তাই তাদের কাছ থেকে সবাই দূরে থাকতে চায়।পরিশেষে বলা যায়, অশ্লীলতা নামের ঘৃণ্য ব্যাধি থেকে আমাদের সবারই দূরে থাকা উচিত। নিজেদেরকে অশ্লীলতা থেকে মুক্ত রাখতে পারলেই সমাজব্যবস্থা সুন্দর হয়ে উঠবে।


উদ্দীপকঃ-

অঢেল সম্পত্তির মালিক জনাব মাসউদ আল্লাহর পথে অকাতরে সম্পদ ব্যয় করছেন। তার এ কর্মকাণ্ড দেখে ধর্মপ্রাণ হওয়া সত্ত্বেও ইমাম সাহেবের তাতে খুবই ঈর্ষা ও হিংসা হয়। মাসউদ সাহেবের ছেলে কামরান মিথ্যা, গিবত, কুৎসা ও অশ্লীল ইত্যাদি অন্যায় কাজের সাথে জড়িত। অথচ সে মৃত্যুর পরে জান্নাত প্রাপ্তির আশা করে। ইমাম সাহেবও তাকে জান্নাত প্রাপ্তির ব্যাপারে আশ্বস্ত করে।

ক. মাশহুর হাদিস কী?

খ. মাকতু হাদিস বলতে কী বোঝায়?

গ. হাদিস অনুযায়ী কামরান প্রথমত কোন অন্যায় কাজটি পরিত্যাগ করলে পরকালে জান্নাত পেতে পারে? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ. মাসউদ সাহেবের প্রতি ইমাম সাহেবের ঈর্ষা ও হিংসা পোষণের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করো।


প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) যে হাদিসের রাবির সংখ্যা এক বা একাধিক স্তরে কমপক্ষে তিনজন তাই হলো মাশহুর হাদিস।


খ) উৎসের ভিত্তিতে হাদিসের একটি ভাগ হলো মাকতু হাদিস। কিছু কিছু হাদিসের বর্ণনাধারা কোনো না কোনো তাবেয়ি পর্যন্ত পৌঁছেছে। অর্থাৎ যেসব হাদিসের বক্তব্য তাবেয়িদের নিজস্ব, এসব হাদিসকে মাকতু হাদিস বলে। যেমন- বিদআতি লোকদের পেছনে সালাত আদায় প্রসঙ্গে প্রখ্যাত তাবেয়ি হাসান বসরি (র) বলেন, তুমি তার পেছনে সালাত আদায় করো। কেননা তার বিদআতের দায় তারই ওপর।


গ) হাদিস অনুযায়ী কামরান প্রথমত মিথ্যা পরিত্যাগ করলে পরকালে জান্নাত পেতে পারে।সত্যের অনুশীলনই হলো ইসলামের অনুশীলন। সত্যবাদিতা ব্যক্তিকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। ফলে সে ইহকাল ও পরকালে সফল হতে পারে। এ কারণে কামরানের জান্নাত প্রাপ্তির আশা পূরণ হওয়ার জন্য প্রথমত মিথ্যা পরিত্যাগ আবশ্যক।মিথ্যা সকল পাপের মূল। সকল পাপের পেছনেই রয়েছে মিথ্যাবাদিতা। মিথ্যা মানুষকে পাপকাজে অভ্যস্ত করে ধ্বংসের পথে নিয়ে যায়। আর ব্যক্তি যখন সত্য বলে, সত্যবাদিতায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে তখন তার নাম আল্লাহর কাছে পরম সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়। তখন তার জান্নাত লাভ নিশ্চিত হয়। কেননা সত্য পুণ্যের পথে আর পুণ্য পরিচালিত করে জান্নাতের পথে। মাসউদ সাহেবের ছেলে কামরান মিথ্যা, গিবত, চুরি, ইভটিজিং ইত্যাদি অন্যায় কাজের সাথে জড়িত। সে যদি এসব অন্যায় থেকে মিথ্যা পরিত্যাগ করে সত্যে অভ্যস্ত হয়, তাহলে অন্যান্য খারাপ কাজ পরিত্যাগে সে বাধ্য হবে। এভাবে সে সকল পাপ মুক্ত হয়ে পুণ্যের পথে পরিচালিত হয়ে জান্নাত পাবে। সুতরাং পরকালে জান্নাত পাওয়ার জন্য কামরানের প্রথমত মিথ্যা পরিত্যাগ করা উচিত।


ঘ) মাসউদ সাহেবের প্রতি ইমাম সাহেবের ঈর্ষা ও হিংসা পোষণ অত্যন্ত যৌক্তিক।হিংসা বা পরশ্রীকাতরতা হলো নিজেকে বড় মনে করে অন্যকে ঘৃণা করা, শত্রুতা পোষণ করা। ইসলামে হিংসা সম্পূর্ণ হারাম হলেও ভালো কাজে হিংসা করার অনুমতি আছে। ইমাম সাহেবও ভালো কাজের জন্যই মাসউদ সাহেবকে হিংসা করেছেন।হিংসা বা ঈর্ষা যদি অপরের ধ্বংস কামনার পরিবর্তে নিজের উন্নতির জন্য হয় এবং তাতে ভালো উদ্দেশ্য নিহিত থাকে তা হলে তা অবৈধ নয়। যেমন- কেউ পুণ্যবান হলে তার মতো পুণ্যবান হওয়ার প্রয়াসে প্রতিযোগিতামূলকভাবে তাকে হিংসা করা যায়। হাদিসে মহানবি (স) দুজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছেন যাদেরকে হিংসা বা ঈর্ষা করা যায়। এর মধ্যে একজন হলো সেই সম্পদশালী মুসলিম আল্লাহ যাকে বিপুল ধন-সম্পদ দিয়েছেন। পাশাপাশি উক্ত ব্যক্তি যাকে অপব্যয় না করে বরং ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী সে সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করার তৌফিক দিয়েছেন। এমনই একজন মুসলিম হলেন জনাব মাসউদ।জনাব মাসউদ অঢেল সম্পত্তির মালিক। এ সম্পত্তির কোনো অপব্যয় না করে তিনি তা আল্লাহ্র পথে অকাতরে ব্যয় করছেন। নিঃসন্দেহে এটি ভালো কাজ। আর এ কাজের ঈর্ষা করার অনুমতি রাসুল (স) দিয়েছেন আর ইমাম সাহেব ও তার মতো ভালো কাজ করার জন্যই তাকে হিংসা করেছেন।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, ইমাম সাহেবের হিংসা যৌক্তিক।

299 টি প্রশ্ন

296 টি উত্তর

1 মন্তব্য

1.6k জন সদস্য

2 জন অনলাইনে আছেন
0 জন সদস্য 2 জন অতিথি
আজ ভিজিট : 199 বার
গতকাল ভিজিট : 4745 বার
সর্বমোট ভিজিট : 294782 বার

Ask2Ans এ আপনাকে সুস্বাগতম, এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং Ask2An অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পাবেন। এখান থেকে যেমন আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন তেমনিই এটি ব্যবহার করে আপনার জ্ঞান দিয়ে অপরকে সহায়তা করতে পারবেন। জ্ঞানার্জনের অন্যতম বাংলা প্লাটফর্ম হলো Ask2Ans, আমাদের সাথে থাকুন জ্ঞানঅর্জন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 69 বার প্রদর্শিত
18 নভেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 120 বার প্রদর্শিত
26 জানুয়ারি "ইসলাম শিক্ষা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 93 বার প্রদর্শিত
21 জানুয়ারি "ইসলাম শিক্ষা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 109 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 68 বার প্রদর্শিত
21 ডিসেম্বর 2023 "ইসলাম শিক্ষা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
...