আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
120 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন (525 পয়েন্ট)

খলজিদের আদিবাস কোথায়?

দিল্লি সালতানাতের পতনে সুলতানদের নৈতিক অধঃপতন দায়ী- ব্যাখ্যা কর।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (525 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

 ওয়ার্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই অনন্য আনোয়ার নিজের দলের যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমাজের উন্নয়ন ও তাঁকে সহযোগিত! করার জন্য 'সবুজসংঘ' নামে একটি সংগঠন তৈরি করেন। উক্ত সংগঠন তাঁর আমলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর সংগঠনের সদস্যদের ব্যক্তিগত লোভ ও অভ্যন্তরীণ কলহের কারণে তারা উগ্র হয়ে ওঠে। তাদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য পরবর্তী চেয়ারম্যান সেলিম সাহেব অতি নিষ্ঠুর ও কঠোর পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদেরকে দমনসহ উত্ত সংগঠনটির বিলুপ্তি ঘটান। ফলে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি শান্তি ও উন্নতি অব্যাহত থাকে।


ক. খলজিদের আদিবাস কোথায়?


খ. দিল্লি সালতানাতের পতনে সুলতানদের নৈতিক অধঃপতন দায়ী- ব্যাখ্যা কর।


গ. উদ্দীপকের সবুজ সংঘের সাথে ইলতুৎমিশের কোন সংঘের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।


ঘ. সেলিম সাহেবের পদক্ষেপ সুলতান বলবনের কঠোর নীতিরই প্রতিচ্ছবি- মূল্যায়ন কর।



প্রশ্নের উত্তরঃ- 


ক) খলজিদের আদিবাস তুর্কিস্তানে।



খ) দিল্লি সালতানাতের পতনে সুলতানদের নৈতিক অধঃপতন একটি অন্যতম কারণ।দিল্লির শেষ সুলতানদের মধ্যে অনেকেরই নৈতিক অধঃপতন ঘটেছিল। তারা মদ্যপানে অভ্যস্ত ছিলেন এবং উপপত্নী রাখতেন। সুলতানরা নিজে মদ্যপান করে হেরেমে নারীবেষ্টিত থেকে শাসনকার্য উজিরদের হাতে ছেড়ে দিতেন। অনেক সম্রাট দাসদের প্রতি এত নির্ভরশীল ছিলেন যে তারা অনেকেই শাসনকার্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাথে জড়িত ছিল। তাই দিল্লি সালতানাতের পতনে সুলতানদের নৈতিক অধঃপতন অনেকাংশেই দায়ী।



গ) কর্মকাণ্ডগত দিক দিয়ে বন্দেগান-ই-চেহেলেগানের সাথে উদ্দীপকে উল্লিখিত সবুজ সংঘের সাদৃশ্য পরিলক্ষিত হয়।সুলতান ইলতুৎমিশের শাসনামলে তুর্কি অভিজাতরা প্রভূত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে ওঠে। এরাই 'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' নামে পরিচিত ছিল। সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনও এ গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইলতুৎমিশ-পরবর্তী দুর্বল উত্তরাধিকারীদের যুগে এ গোষ্ঠী প্রশাসন, রাজনীতি, অর্থনীতিতে সর্বেসর্বা হয়ে ওঠে। মাঝে মধ্যে তারা শাসকদের বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধেও এ চক্র শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করে। তারা নানা ধরনের অপকর্ম করে প্রশাসনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের সবুজ সংঘের মধ্যেও এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ করা যায়।উদ্দীপকে দেখা যায়, ওয়ার্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই অনন্য আনোয়ার নিজের দলের যোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে সমাজের উন্নয়ন ও তাঁকে সহযোগিতা করার জন্য 'সবুজসংঘ' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত সংগঠন তাঁর আমলে ব্যাপক সুনাম অর্জন করে। বন্দেগান- ই-চেহেলগানও সুলতান ইলতুৎমিশের সময়ে সাম্রাজ্যের স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি তুর্কি ক্রীতদাসদের মধ্য থেকে ৪০ জনের সমন্বয়ে একটি চক্র গড়ে তোলেন। কেন্দ্রীয় প্রশাসন পরিচালনায় এরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর এরা প্রভাবশালী হয়ে ওঠে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের সবুজ সংঘের মধ্যে বন্দেগান-ই-চেহেলেগানের প্রতিফলন ঘটেছে।



ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত সেলিম সাহেবের গৃহীত উদ্যোগে সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের 'বন্দেগান-ই-চেহেলেগান' দমনে গৃহীত কঠোর পদক্ষেপের প্রতিফলন ঘটেছে। সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের সময়ে 'বন্দেগান-ই-চেছেলেগান' নামক তুর্কি অভিজাতদের অপকর্মের দৌরাত্ম্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পায়। সুলতান তাদের অপরাধ চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন। তাদের পদোন্নতি বন্ধ করে দেন এবং বদলির ব্যবস্থা করেন। তিনি তাদের জনসমক্ষে শাস্তি দেন। উদ্দীপকেও এ ধরনের উদ্যোগ লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে তিনি কর্মকর্তাদের বদলির আদেশ দেন। একইভাবে গিয়াসউদ্দিন বলবনও দুর্নীতিবাজ বন্দেগান-ই-চেছেলেগানদের শাস্তি দেন। তিনি অপরাধীদের চিহ্নিত করে যেমন জনসমক্ষে বিচার করতেন তেমনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একই ধরনের বাস্তবধর্মী ও নিরপেক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ফলে ইউনিয়নে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। গিয়াসউদ্দিন বলবনের বন্দেগান-ই-চেছেলেগানদের দমনের ফলেও সাম্রাজ্যে সুশাসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। সুলতান বলবন এ চক্রের প্রভাব খর্ব করে সাম্রাজ্যে নিজের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং গিয়াসউদ্দিন বলবনের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বাস্তবধর্মী এবং কার্যকর হওয়ায় উভয়ই সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছেন। তাদের পদক্ষেপগুলো পরস্পরের প্রতিচ্ছবি।



উদ্দীপকঃ- 

সুলতানের সুযোগ্য কোনো পুত্র না থাকায়, তিনি জীবিত থাকতেই তার কন্যা নাদিয়াকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করে গিয়েছেন। সিংহাসন আরোহণের সাথে সাথে নাদিয়ার বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্র শুরু হয়, তবুও তিনি দৃঢ়তার সাথে রাজ্য পরিচালনা করেন।


ক. দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা কে?


খ. "বন্দেগান-ই-চেহেলগান" বলতে কী বোঝায়?


গ. নাদিয়ার শাসনব্যবস্থায় ইতিহাসের কোন শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটে? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বর্ণনা কর।


ঘ. নাদিয়া শান্তিতে রাজ্য শাসন করতে পারলেন না- মতামতের সপক্ষে যুক্তি দাও।



 প্রশ্নের উত্তরঃ-


ক) দিল্লি সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা সুলতান ইলতুৎমিশ।



খ) বন্দেগান-ই-চেহেলগান-এর অর্থ চল্লিশ আমির দল। সুলতান ইলতুৎমিশ দিল্লি সালতানাতের যোগ্য শাসকদের ধারাবাহিক আগমন নিশ্চিতকরণের জন্য ৪০ জন সাহসী, যোগ্য ও দূরদর্শী ক্রীতদাসকে নিয়ে একটি দল গঠন করেন, যা 'বন্দেগান-ই-চেহেলগান' নামে পরিচিত। সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবন এর অন্যতম সদস্য ছিলেন।



গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত নাদিয়ার শাসনব্যবস্থায় ইতিহাসের সুলতান রাজিয়ার শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটে।সুলতান ইলতুৎমিশ পুত্রদের তুলনায় কন্যা রাজিয়াকে সালতানাত পরিচালনায় অধিক যোগ্য বলে মনে করেছিলেন। তাই তিনি কন্যা রাজিয়াকে দিল্লি সালতানাতের পরবর্তী উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেন। রাজিয়া দিল্লি সালতানাতের দায়িত্ব নিলে তার কাছের মানুষেরা বিরোধিতায় লিপ্ত হয়। তাদের বিরোধিতা চরম আকার ধারণ করলে রাজিয়াকে ক্ষমতা হারাতে হয়। উদ্দীপকেও এ ধরনের ঘটনার ইঙ্গিত রয়েছে।উদ্দীপকে দেখা যায়, সুলতানের সুযোগ্য কোনো পুত্র না থাকায় তিনি জীবিত থাকতেই তার কন্যা নাদিয়াকে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী মনোনীত করে গিয়েছেন। সিংহাসনে আরোহণের সাথে সাথে নাদিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়। তবুও তিনি দৃঢ়তার সাথে রাজ্য পরিচালনা করেন। সুলতান রাজিয়ার ক্ষেত্রেও দেখা যায়, পিতার মনোনীত উত্তরাধিকারী হিসেবে সিংহাসনে আরোহণের সাথে সাথে সুলতান রাজিয়াকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করতে অভিজাত আলমে-উলেমা এবং আত্মীয়রা নানা ধরনের বিরোধিতা করেন। ভিন্ন সাম্রাজ্যের সাথে বিরোধ থাকলে অথবা প্রতিযোগিতা থাকলে তাতে জয় লাভ করা যায়। কিন্তু নিজের অভিজাতদের মধ্যে শত্রুতা থাকলে তা অনেক সময় পরাজয় ডেকে আনে। এজন্য দক্ষতার সাথে রাজ্য পরিচালনা করার পরেও তিনি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে পারেনি। ফলে তার পতন ঘটে। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের নাদিয়া এবং সুলতান রাজিয়া একে অপরের প্রতিচ্ছবি।



ঘ) উদ্দীপকের নাদিয়ার মতো সুলতান রাজিয়াও সকল বাধা দূর করে শান্তিতে রাজ্য শাসন করতে পারেন নি।ভারতের মুসলিম শাসনের ইতিহাসে সুলতান রাজিয়া ছিলেন দিল্লির সিংহাসনে আরোহণকারী প্রথম ও একমাত্র মহিলা। তিনি ছিলেন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন এবং অসাধারণ প্রতিভাশালী একজন নারী। এ বি এম হাবিবুল্লাহর মতে, সাহসিকতা ও অদম্য দৃঢ়তাই ছিল রাজিয়ার আদর্শ। চারিত্রিক দৃঢ়তায় তিনি নিজেকে পুরুষ অপেক্ষা যোগ্যতর প্রমাণ করেন। সুলতান রাজিয়া তার প্রশাসনের দৃঢ়তা ও ব্যক্তিগত শক্তি-সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্যেই মহিলা পোশাক পরিত্যাগ করেন। অশ্বারোহণে জনসম্মুখে বের হন এবং প্রকাশ্যে দরবার পরিচালনা করেন। এত কিছুর পরও তিনি শাসক হিসেবে ব্যর্থ হন। তিনি সাম্রাজ্যের সকল বাধা অতিক্রম করে সফলতা আনতে পারেননি। শক্তিশালী পুরুষ আমির-উমরাহগণ একজন নারী কর্তৃক শাসিত হতে অপমানবোধ করে তার উৎখাত সাধনে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। সুলতান রাজিয়া এদের ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে, তুর্কি অভিজাতদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হলে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজিয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। মূলত তুর্কিদের এই ষড়যন্ত্রের ফলেই সুলতান রাজিয়ার পতন ঘটে।পরিশেষে বলা যায় যে, নানাবিধ গুণাবলি ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজিয়া সকল বাধা অতিক্রম করে সফলতার শিখরে আরোহণ করতে পারেননি।

Ask2Ans এ আপনাকে সুস্বাগতম, এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং Ask2An অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পাবেন। এখান থেকে যেমন আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন তেমনিই এটি ব্যবহার করে আপনার জ্ঞান দিয়ে অপরকে সহায়তা করতে পারবেন। জ্ঞানার্জনের অন্যতম বাংলা প্লাটফর্ম হলো Ask2Ans, আমাদের সাথে থাকুন জ্ঞানঅর্জন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 55 বার প্রদর্শিত
05 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 65 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 61 বার প্রদর্শিত
16 জানুয়ারি "ইসলাম শিক্ষা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 75 বার প্রদর্শিত
14 জানুয়ারি "ব্যবসা-বাণিজ্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 117 বার প্রদর্শিত
...