আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
76 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন (569 পয়েন্ট)

  • ইংল্যান্ডের প্রথম দরিদ্র আইন প্রণয়ন করেন কে?
  • সমাজকর্মকে বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?
  • NASW এর পূর্ণরূপ কী?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (569 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

=> জনাব কায়ছার একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠান থেকে জাতি, ধর্ম বর্ণ, লিজা, বয়স, ধনী-দরিদ্র সকলকেই সাহায্য করে থাকেন। এক্ষেত্রে তিনি আত্মনির্ভরশীলতার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।


প্রশ্ন-

ক. ইংল্যান্ডের প্রথম দরিদ্র আইন প্রণয়ন করেন কে?

খ. সমাজকর্মকে বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে কায়ছার সাহেবের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সাথে সমাজকর্মের কোন বৈশিষ্ট্য সাদৃশ্যপূর্ণ? বুঝিয়ে লিখ।

ঘ. "সমাজকর্মের জন্য উদ্দীপকে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্যই যথেষ্ট নয়"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।


প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) রাজা তৃতীয় এডওয়ার্ড ইংল্যান্ডের প্রথম দরিদ্র আইন প্রণয়ন করেন।


খ) বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হয় বলে সমাজকর্মকে বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া বলা হয়। সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল, সমষ্টির সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্মে প্রতিকার, প্রতিরোধ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করে। এগুলো পরিচালনায় বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও কৌশল উদ্ভাবন করে সমস্যার সমাধানে সচেষ্ট হয়। এ সমস্ত কারণে সমাজকর্ম বিজ্ঞানভিত্তিক সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচিত।


গ) উদ্দীপকে কায়ছার সাহেবের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের সাথে সমাজকর্মের অন্যতম বৈশিষ্ট্য সর্বজনীন কার্যক্রম সাহায্যকারী ও সক্ষমকারী পেশার মিল পাওয়া যায়।

সমাজকর্ম বর্তমান বিশ্বে একটি মানবসেবামূলক পেশা হিসেবে সর্বজনস্বীকৃত। অন্যান্য পেশার মতো সমাজকর্মও কতগুলো স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। এর মধ্যে সাহায্যকারী ও সক্ষমকারী পেশার বৈশিষ্ট্য অন্যতম। মূলত এ পেশায় ব্যক্তি ও দলকে কর্মপ্রচেষ্টার উন্নয়নে সক্ষম করে তোলা হয়। এছাড়া জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, অর্থনৈতিক অবস্থা, রাজনৈতিক বিশ্বাস নির্বিশেষে সমস্যাগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে সমাজকর্ম কার্যক্রম পরিচালনা করে। সমাজকর্মের সমাজের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল ও সমষ্টিকে এমনভাবে সাহায্য করা নয় যাতে তারা নিজের সম্পদ ও সামর্থ্য সম্পর্কে সচেতন হয়ে সামাজিক ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়। উদ্দীপকেও জনাব কায়ছার তার প্রতিষ্ঠানে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ নির্বিশেষে সমস্যাগ্রস্তদের সাহায্য করার চেষ্টা করেন। যা উপরোল্লিখিত সমাজকর্মের বৈশিষ্ট্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায় জনাব কায়ছারের প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য সমাজকর্মের বৈশিষ্ট্যকেই নির্দেশ করে।


ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্য সমাজকর্মের খণ্ডচিত্র মাত্র। সমাজকর্ম হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর একটি সমস্যা সমাধানকারী প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ায় সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধাপ বা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। একে একটি সংযোগকারী কার্যক্রম ও বলা যায়, যার মাধ্যমে অসুবিধাগ্রস্ত ব্যক্তি, দল তাদের প্রয়োজন পূরণে সমষ্টির সম্পদকে কাজে লাগাতে পারে। এছাড়া সমাজকর্ম পদ্ধতি নির্ভর ও সংগঠিত সমাধান প্রক্রিয়া। এটি সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত উপায়ে সমস্যাগ্রস্ত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে। এখানে বিশেষ জ্ঞান ও দক্ষতার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট শিক্ষা কর্মসূচির অধীনে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করে মানবকল্যাণে ব্যবহার করতে হয়। এটি একটি সমন্বিত সামাজিক বিজ্ঞান ও বহুমাত্রিক পেশা। তাই, বিস্তৃত সামাজিক পরিবেশে সমাজকর্মীকে বিচিত্র দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে বহুমাত্রিক কার্যাবলি সম্পাদন করতে।উদ্দীপকের একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জনাব কায়ছার জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, নির্বিশেষে সাহায্যে এগিয়ে আসেন। একই সাথে তিনি তাদের আত্মনির্ভরশীলতার প্রতি গুরুত্ব দেন। যা মূলত সমাজকর্মের সাহায্যকারী ও সক্ষমকারী পেশা এবং সার্বজনীন কার্যক্রম প্রক্রিয়াকে তুলে ধরে। কিন্তু এ বৈশিষ্ট্য ছাড়াও সমাজকর্ম সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য দানে উপরোল্লিখিত কার্যক্রম বা বৈশিষ্ট্যর অনুসরণ করে।

সুতরাং বলা যায়, জনাব কায়ছার সাহেবের প্রতিষ্ঠানে সমাজকর্মের সব বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয়নি।


উদ্দীপকঃ-

=> রাজু একাদশ শ্রেণির ছাত্র। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের কাছে সে জানতে পারে বর্তমান সময়ে একটি নতুন বিষয়ের উদ্ভব হয়েছে। যা কিছু পদ্ধতির সাহায্যে সমাজের মানুষের ব্যক্তিগত, দলগত এবং সমষ্টিগত সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সহায়তা করে। তাছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে বিষয়টি একটি পেশা হিসেবে স্বীকৃত।


প্রশ্ন-

ক. NASW এর পূর্ণরূপ কী?

খ. সমস্যার স্থায়ী সমাধান বলতে কী বোঝ?

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি কী? ব্যাখ্যা কর।


ঘ. বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।


প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) NASW এর পূর্ণরূপ- National Association of Social Workers.


খ) সমস্যার স্থায়ী সমাধান বলতে সমস্যার কার্যকরী সমাধানকে বোঝায়।

সমাজকর্ম যে কোনো সমস্যার সাময়িক সমাধানে বিশ্বাস করে না। তাই যে কোনো আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার কার্যকরি সমাধানের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা এমনভাবে সহায়তা করে যাতে সমস্যাটি সম্পূর্ণরূপে সমাধান হয়। এর ফলে সমস্যাটির পুনরায় উদ্ভব ঘটে না।


গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে সমাজকর্ম।

সমাজকর্ম হলো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিনির্ভর সাহায্যকারী পেশা। এটি সমাজে ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির বিভিন্ন সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে উন্নয়নে সহায়তা করে। এর ফলে তারা নিজেদের সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম হয়। এছাড়া সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল বা সমষ্টির সম্পদ ও অন্তর্নিহিত শক্তিকে ব্যবহারের মাধ্যমে সাহায্যার্থীকে স্বাবলম্বী করে তোলার প্রচেষ্টা চালায়। কেননা সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে মানুষকে তার সামাজিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য স্থাপনে সক্ষম করে তোলা সমাজকর্মের অন্যতম উদ্দেশ্য। উদ্দীপকে একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাজু তার শিক্ষকের কাছে নতুন একটি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারে। বিষয়টি কিছু পদ্ধতির সাহায্যে মানুষের বিভিন্ন ধরনের সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সহায়তা করে। এমনকি বিষয়টি বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে পেশা হিসেবে স্বীকৃত। তাই বলা যায় উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়টি হচ্ছে সমাজকর্ম।


ঘ) বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম।

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধরনের আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যা রয়েছে। এ সকল সমস্যার সুষ্ঠু ও কার্যকারি সমাধানের জন্য সমাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের দেশে সম্পদ সীমিত কিন্তু চাহিদা অসীম। এই সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তবমুখী কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন। এক্ষেত্রে সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহারে সমাজকর্মের জ্ঞান বিশেষভাগে উপযোগী। বাংলাদেশের সার্বিক সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হলো কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, অন্ধবিশ্বাস, অসচেতনতা প্রভৃতি সমাজকর্ম এছাড়া সমাজের কুসংস্কার ও কু-প্রথার প্রবৃত্তি, কারণ ও সমাধানের কৌশল নিয়ে বিশদভাবে আলোচনা ও বিশ্লেষণ করে। এছাড়া সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শ্রেণির কল্যাণে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। এ ধরনের কর্মসূচিগুলো সফলভাবে পরিচালনা করতে সমাজকর্ম জ্ঞান অপরিহার্য। বর্তমানে আমাদের দেশে আর্থ-সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু.. বাস্তবমুখী নীতি, পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং যথাযথ বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয়ের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। সমাজকর্মের জ্ঞানের আলোকে এ সকল সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে তাই, বলা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক কল্যাণ ও উন্নয়নে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সমাজকর্মের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য।

Ask2Ans এ আপনাকে সুস্বাগতম, এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং Ask2An অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পাবেন। এখান থেকে যেমন আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন তেমনিই এটি ব্যবহার করে আপনার জ্ঞান দিয়ে অপরকে সহায়তা করতে পারবেন। জ্ঞানার্জনের অন্যতম বাংলা প্লাটফর্ম হলো Ask2Ans, আমাদের সাথে থাকুন জ্ঞানঅর্জন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 55 বার প্রদর্শিত
10 ফেব্রুয়ারি "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 98 বার প্রদর্শিত
23 নভেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 99 বার প্রদর্শিত
11 জানুয়ারি "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 44 বার প্রদর্শিত
18 ডিসেম্বর 2023 "বাংলা সাহিত্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 121 বার প্রদর্শিত
...