আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
41 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন (525 পয়েন্ট)

তৈমুর লঙ কত খ্রিষ্টাব্দে ভারত আক্রমণ করেন?

লোদি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

পানিপথের ২য় যুদ্ধের ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (525 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

সুরুজ মিয়া চেয়ারম্যান হওয়ার পর অনেকেই তার কাছে সাহায্যের জন্য আসেন। কেউ চিকিৎসা সাহায্যের জন্য, কেউ কন্যা দায়গ্রস্ত হয়ে, কেউ ছেলেমেয়েদের চাকুরির তদবিরের জন্য, কেউ মৃতের সৎকারের জন্য। সুরুজ মিয়া ভাবলেন, তাঁর একার পক্ষে এ সকলের সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই এলাকার বিত্তশালীদের সহযোগিতা নিয়ে এসব সমস্যা সমাধানের কথা চিন্তা করেন। প্রথমেই তিনি একটি ফান্ড গঠন করে এলাকার কন্যা দায়গ্রস্তদের সাহায্য প্রদানের ব্যবস্থা করেন।

. তৈমুর লঙ কত খ্রিষ্টাব্দে ভারত আক্রমণ করেন?

. উদ্দীপকে সুরুজ মিয়ার প্রথম সমস্যা সমাধানের সাথে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের কোন কাজটির মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উক্ত সমস্যা ছাড়া আর কোন কোন সমস্যা সমাধানে ফিরোজ শাহ তুঘলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন? উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ কর।


প্রশ্নের উত্তরঃ-


ক) তৈমুর লঙ ১৩৯৮ খ্রিষ্টাব্দে ভারত আক্রমণ করেন।


গ) উদ্দীপকের সুরুজ মিয়ার প্রথম সমস্যা সমাধানের সাথে সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের মানব কল্যাণমূলক কাজের মিল রয়েছে। ফিরোজ শাহ তুঘলক একজন দয়ার্দ্রচিত্ত ও প্রজারঞ্জক সুলতান ছিলেন। তার প্রজাহিতৈষণামূলক কয়েকটি পদক্ষেপ ইতিহাসে মাতামহীসুলভ ব্যবস্থা নামে পরিচিত। এ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য দিকের মধ্যে ছিল 'বিবাহ দপ্তর' এবং 'চাকরি দপ্তর' প্রতিষ্ঠা। 'দিওয়ান-ই-খায়রাত'-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিবাহ দপ্তরের মাধ্যমে গরিব ও অনাথ মেয়েদের সরকারি খরচে বিয়ে এবং বেওয়ারিশ লাশের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্নের ব্যবস্থা করা হতো। আর 'দিওয়ান-ই-ইস্তহক' নামক দপ্তরের মাধ্যমে দরিদ্র, অনাথ ও বিধবাদের আর্থিক সাহায্য দেওয়া হতো। চাকরি দপ্তরের কাজ ছিল যোগ্যতা অনুযায়ী বেকার যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করা।উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সুরুজ মিয়ার নিকট অনেকেই আসেন সাহায্যের জন্য। কেউ চিকিৎসা, কেউ কন্যা দায়গ্রস্ত হয়ে, কেউ চাকরির তদবির নিয়ে, আবার কেউ মৃত ব্যক্তির সৎকারের জন্য। পূর্বোক্ত আলোচনা অনুযায়ী নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, উদ্দীপকের কাজগুলো সুলতান ফিরোজ শাহ তুঘলকের গৃহীত পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত সমস্যা ছাড়াও ফিরোজ শাহ তুঘলক দুর্বল প্রশাসনিক ভিত মজবুতকরণ, আর্থিক অব্যবস্থাপনা রোধ এবং প্রজাসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতসহ অনেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। দিল্লি সালতানাতের এক সংকটময় পরিস্থিতিতে সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়ে ফিরোজ শাহ তুঘলক প্রথমেই প্রশাসনিক ভিত মজবুত করার চেষ্টা করেন। সুদক্ষ প্রশাসক মালিক-ই-মকবুলকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিজাত ও উলেমাদের শুভেচ্ছা, সমর্থন ও সহযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের কিছু বৈষয়িক সুবিধা প্রদান এবং সাধারণ জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের চেষ্টা করা হয়।ফিরোজ শাহ তুঘলক সরকারি ঋণ মওকুফ ও নিত্য ব্যবহার্য পণ্যমূল্য হ্রাস ও নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেন। সালতানাতের আর্থিক অব্যবস্থাপনা রোধ এবং অর্থনৈতিক কাঠামো সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ফিরোজ শাহ তুঘলক রাজস্ব প্রশাসনে নানা সংস্কার সাধন করেন। জনদুর্ভোগ লাঘব, রায়তদের অবস্থার উন্নতি এবং জনপ্রশাসনের প্রতি তাদের আস্থা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সুলতান কৃষকদের সরকারি বকেয়া ঋণ মওকুফ করেন। তিনি প্রজাসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে 'দার উশ শেফা', 'বিমারিস্তান', বা 'শিফাখানা' নামক দাতব্য চিকিৎসালয় স্থাপন করেছিলেন। এসব দাতব্য চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, এমনকি দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের বিনামূল্যে ঔষুধও সরবরাহ করা হতো।পরিশেষে বলা যায়, ফিরোজ শাহ তুঘলক ছিলেন একজন প্রজাহিতৈষী শাসক। তিনি রাজ্য এবং রাজ্যের প্রজাদের বৈষয়িক উন্নয়নে বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।


উদ্দীপকঃ-

 রফিক সাহেব 'ক' ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর কিছু ব্যতিক্রম ও নতুন নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তার ৫টি পরিকল্পনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থানান্তর এবং বিশেষ এলাকার লোকদের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য। তার পরিকল্পনার উদ্দেশ্য মহৎ হওয়া সত্ত্বেও সময়ের তুলনায় অগ্রবর্তী হওয়ায় সেগুলো ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। আব্দুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ, নরসিংদী।

. লোদি বংশের প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?

খ. পানিপথের ২য় যুদ্ধের ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

গ. রফিক সাহেবের পরিকল্পনাগুলো তোমার পঠিত শাসকের কোন পরিকল্পনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের শেষোক্ত বাক্যটি তোমার পঠিত শাসকের ক্ষেত্রে কতটুকু যথাযথ? মূল্যায়ন কর।


প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) লোদি বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সুলতান বাহলুল লোদি।


খ)পানি পথের প্রথম যুদ্ধের ন্যায় দ্বিতীয় যুদ্ধও ছিল চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকারী যুদ্ধ।১৫৫৬ খ্রিষ্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর ও আফগান সেনাপতি হিমুর মধ্যে পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে হিমু পরাজিত ও নিহত হয়। ফলে মুঘলরা পুনরায় ভারতের রাজনৈতিক মঞ্চে অধিষ্ঠিত হয়। পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধের ফলে একদিকে ভারতবর্ষে আধিপত্য বিস্তারে মুঘল-আফগান সংঘর্ষের অবসান হয়, অন্যদিকে আফগান শক্তি ধূলিসাৎ হয়। এ যুদ্ধের ফলে মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত্তি সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এছাড়া এ যুদ্ধের ফলে মুঘলদের সাম্রাজ্য বিস্তারের পথ উন্মুক্ত ও প্রশস্ত হয়।


গ) উদ্দীপকে বর্ণিত রফিক সাহেবের পরিকল্পনার সাথে মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা ও উন্নততর শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য দিল্লিতে রাজধানী স্থাপন ও দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্ধির সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত রফিক সাহেব সাম্রাজ্যের নিরাপত্তা, উন্নতর শাসন 'ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং শূন্য অর্থভাণ্ডার পূরণের উদ্দেশ্যে কতিপয় পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। মুহাম্মদ বিন তুঘলকও এমন প্রেক্ষাপটে কিছু উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। রাজধানী স্থানান্তর ও দোয়াব অঞ্চলে কর বৃদ্দি এমনই দুটি পরিকল্পনা।সহজতর নজরদারি, বৈদেশিক আক্রমণ প্রতিহতকরণ ও ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য মুহাম্মদ বিন তুঘলক দিল্লি থেকে দেবগিরিতে রাজধানী স্থানান্তর করেন। পরবর্তীকালে রাজধানীর নাম রাখেন দৌলতাবাদ। কিন্তু তার এ পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। রাজভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার জন্য তিনি দোয়াবে কর বৃদ্ধি করেন। কারণ দোয়াব ছিল দিল্লি সালতানাতের সর্বাপেক্ষা উর্বর ভূমি। গঙ্গা-যমুনার মধ্যবর্তী এ ভূভাগে পানির অভাব না থাকায় এখানে শস্যের ফলন সর্বদা ভালো হতো। দিল্লির সুলতানরা সুযোগ বুঝে সর্বদা তিনি দোয়াবে কর বৃদ্ধি করতেন। সুলতান আলাউদ্দিন খলজি দোয়াবে উৎপন্ন শস্যের শতকরা ৫০ ভাগ বা অর্ধেক কর ধার্য করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, এতেও দোয়াবের রায়তদের কোনো অসুবিধা হতো না, কারণ দোয়াব সত্যিই উর্বর ছিল। তবে তুঘলকের এ পরিকল্পনাও ব্যর্থ হয়। অতিরিক্ত করদানে কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে আর্থিক ক্লেশ বৃদ্ধি এবং সংকট সৃষ্টি হয়। এর ফলে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।


ঘ) মুহাম্মদ বিন তুঘলক কর্তৃক গৃহীত পরিকল্পনাসমূহ তৎকালীন যুগের থেকে অগ্রবর্তী হওয়ায় তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের রাজধানী স্থানান্তর পরিকল্পনাকে অনেকে এক স্বৈরাচারী শাসকের নির্বুদ্ধিতাপ্রসূত নিষ্ফল কাজ এবং কেউ কেউ "অসাবধানী পরিকল্পনা" বলে অভিহিত করেছেন। লেনপুলের মতে, "দৌলতাবাদ ছিল ভ্রান্তপথে পরিচালিত উদ্যমের কীর্তিস্তম্ভ।" সুলতানের রাজধানী স্থানান্তরের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল মহৎ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন এবং সাম্রাজ্যের জন্য মঙ্গলকর। কিন্তু সুলতানের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদ্ধতি ছিল ত্রুটিপূর্ণ। তিনি যদি কেবল তার দরবার ও প্রশাসনিক দপ্তর স্থানান্তর করে ক্ষান্ত হতেন, তবে সুলতানের পরিকল্পনাটি সংগত ও বাস্তবে পরিণত হতো। কিন্তু তা না করায় মহৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পনাটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দোয়াব অঞ্চলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। আর ঠিক এ সময়ে বর্ধিত হারে রাজস্ব আরোপের ফলে কৃষকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা বিদ্রোহ করে এবং অনেকে নিজ খামারের শস্য পুড়িয়ে ফেলে ও কৃষিকাজ ত্যাগ করে বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। জীবন-ধারণের প্রয়োজনে অনেকে দস্যুতার পথ বেছে নেয়। ঐতিহাসিক বারানীর মতে, 'কৃষকদের মেরুদণ্ড ভেঙে যায়।' তিনি বলেন, সুলতানের উৎপীড়নে রায়তরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। সুলতান দোয়াবে বিভীষিকা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। ফলে সুলতানের কর বৃদ্ধির পরিকল্পনাটিও ব্যর্থ হয়।

পরিশেষে বলা যায় যে, মুহম্মদ বিন তুঘলকের অপরিণামদর্শিতার | কারণে তার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল।


Ask2Ans এ আপনাকে সুস্বাগতম, এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং Ask2An অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পাবেন। এখান থেকে যেমন আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন তেমনিই এটি ব্যবহার করে আপনার জ্ঞান দিয়ে অপরকে সহায়তা করতে পারবেন। জ্ঞানার্জনের অন্যতম বাংলা প্লাটফর্ম হলো Ask2Ans, আমাদের সাথে থাকুন জ্ঞানঅর্জন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 38 বার প্রদর্শিত
03 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 48 বার প্রদর্শিত
17 নভেম্বর 2023 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 44 বার প্রদর্শিত
17 নভেম্বর 2023 "সাধারণ জ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 77 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 86 বার প্রদর্শিত
23 নভেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
...