আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
39 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন (569 পয়েন্ট)

  • মুহাম্মদ বিন কাসিম কত খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধুতে অভিযান চালান?
  • মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা কর।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (569 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

=> রাজশাহীর ছেলে মাহমুদ তার সাতক্ষীরার বন্ধু আলোকপালের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে লক্ষ করল সেখানে হিন্দু সমাজে বর্ণপ্রথা খুবই প্রকট। সমাজে বিদ্যমান চারটি বর্ণের মধ্যে প্রথম দুটি বর্ণের প্রভাব প্রতিপত্তি খুব বেশি। সে এক নিম্নশ্রেণির মানুষের কাছে জানতে পারে যে, ধর্মশাস্ত্র শুনলে বা পাঠ করলে তাদের শান্তি দেয়া হয়। এ ছাড়াও হিন্দু সমাজে মাহমুদ এক শ্রেণির লোক দেখতে পায় যারা অস্পৃশ্য বলে বিবেচিত। আলোকপালের সমাজে অনেক মেয়েকে ১২ বছর বয়সে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয় এবং অনেক পুরুষকে ৪/৫ টা বিয়ে করতে দেখা যায়। বন্ধুর এলাকার সমাজব্যবস্থার এ ভেদাভেদ মাহমুদকে অনেক পীড়া দেয়।


ক. মুহাম্মদ বিন কাসিম কত খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধুতে অভিযান চালান?

খ. মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকের মাহমুদের দেখা সমাজব্যবস্থার সাথে মুসলিম বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতের সমাজব্যবস্থার কী মিল লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর। 

ঘ. উদ্দীপকের সমাজব্যবস্থা সামাজিক প্রগতি ও অগ্রগতির অন্তরায়স্বরূপ- উক্তিটির স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধর। 


প্রশ্নের উত্তর:-

ক) মুহাম্মদ বিন কাসিম ৭১১ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধুতে অভিযান চালান।


ঘ) উদ্দীপকে সামাজিক অসাম্য ও কুসংস্কারের যে চিত্র অঙ্কিত হয়েছে তা যেকোনো দেশের উন্নতিতে প্রতিবন্ধকস্বরূপ- ইতিহাস থেকেই আমরা এ সত্য উপলব্ধি করতে পরি।

প্রাক-মুসলিম যুগের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সে সময় সামাজিক অবস্থা উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থার মতোই ছিল। প্রকৃতপক্ষে জাতিভেদ ও বর্ণভেদ প্রথার মতো সামাজিক অসাম্যের নীতি সমাজের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা সমাজের প্রগতিকে নিম্নমুখী করে তোলে।ইতিহাস থেকে জানা যায়, অষ্টম শতাব্দীর প্রারম্ভে হিন্দু সমাজ মূলত চারটি বর্ণে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যথা- ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র। হিন্দু সমাজের বর্ণ-বৈষম্য বা শ্রেণিভেদ তাদেরকে দুর্বল করে রেখেছিল। সমাজে ব্রাহ্মণ ও ক্ষত্রিয়দের প্রবল প্রতাপ ছিল। তারা তাদের স্বার্থ অনুযায়ী আইন-কানুন প্রণয়ন করত। নিম্নস্তরের হিন্দুদের সর্বাপেক্ষা অবহেলিত ও অসহায় অবস্থায় কালযাপন করতে হতো। নিম্নশ্রেণির হিন্দুদের গীতা পাঠের অধিকার ছিল না। নারী-পুরুষের মাঝেও বৈষম্য ছিল। পুরুষেরা একাধিক বিবাহ করতে পারত। কিন্তু বিধবা বিবাহ প্রথার প্রচলন ছিল না। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে সহমরণ বরণ করতে হতো। এ সামাজিক অসাম্যই সে সময় ভারতের জাতীয় চেতনার উন্মেষের পরিপন্থি, হয়ে দাঁড়ায় এবং দেশের অগ্রগতির পথে অন্তরায় হয়ে দেখা দেয়। আবার বাল্যবিবাহ প্রচলিত থাকায় নারীরা তাদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পেত না, তাদেরকে অকালেই ঝরে পড়তে হতো। সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী এ অবস্থায় থাকলে সমাজের সার্বিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হওয়াই স্বাভাবিক।

আলোচনা থেকে বলা যায়, ইতিহাসই এই সাক্ষ্য বহন করে যে, সামাজিক অসাম্য, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা দেশের উন্নতির গতিকে রোধ করে এবং দেশকে স্থবির করে দেয়।


Ask2Ans এ আপনাকে সুস্বাগতম, এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং Ask2An অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পাবেন। এখান থেকে যেমন আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন তেমনিই এটি ব্যবহার করে আপনার জ্ঞান দিয়ে অপরকে সহায়তা করতে পারবেন। জ্ঞানার্জনের অন্যতম বাংলা প্লাটফর্ম হলো Ask2Ans, আমাদের সাথে থাকুন জ্ঞানঅর্জন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 42 বার প্রদর্শিত
29 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 65 বার প্রদর্শিত
03 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 99 বার প্রদর্শিত
24 জানুয়ারি "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 76 বার প্রদর্শিত
27 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 57 বার প্রদর্শিত
10 জানুয়ারি "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
...