আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
65 বার প্রদর্শিত
"বাংলা সাহিত্য" বিভাগে করেছেন (513 পয়েন্ট)

মৃত্যুঞ্জয় কোথায় শুয়ে ছিল?

মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি খুড়োর বৈরী মনোভাবের কারণ কী?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (513 পয়েন্ট)

উদ্দীপকের বিষয়ঃ অসুস্থ মানুষের সেবা-এর আলোকে প্রণীত।

উদ্দীপকঃ-

ক্যাংক্রাম অরিস। মুখের আধখানা পচে গেছে। ডানদিকের গালটা নেই। দাঁতগুলো বীভৎসভাবে বেরিয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে কাছে দাঁড়ানো যায় না। দূর থেকে পিঠে করে বয়ে এনে এ রোগীর চিকিৎসা চলে না। আমার ইনডোরেও জায়গা নেই তখন। অগত্যা হাসপাতালের বারান্দাতেই থাকতে বললাম। বারান্দাতেও কিন্তু রাখা গেল না শেষ পর্যন্ত। ভীষণ দুর্গন্ধ। অন্যান্য রোগী আপত্তি করতে লাগল। কম্পাউন্ডার, ড্রেসর, এমনকি মেথর পর্যন্ত কাছে যেতে রাজি হলো না। বৃদ্ধ কিন্তু নির্বিকার। দিবারাত্র সেবা করে চলেছে। (তথ্যসূত্রঃ- তাজমহল- বনফুল)

ক. মৃত্যুঞ্জয় কোথায় শুয়ে ছিল?

খ. মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি খুড়োর বৈরী মনোভাবের কারণ কী?

গ. উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের কোন দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে?

ঘ. উদ্দীপকের বৃদ্ধ 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়।- তোমার উত্তরের পক্ষে যুক্তি দেখাও।

 প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) মৃত্যুঞ্জয় তক্তপোষের ওপর পরিষ্কার ধবধবে বিছানায় শুয়ে ছিল।

খ) মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি খুড়ার বৈরী মনোভাবের মূল কারণ মৃত্যুঞ্জয়ের বিশাল আম-কাঠালের বাগানটি নিজের করে নেওয়ার লোভ।মৃত্যুঞ্জয়ের জ্ঞাতি খুড়া সবসময় ভাইপো মৃত্যুঞ্জয়ের অনিষ্ট করার কাজে লেগে থাকতেন। তাকে কীভাবে সমাজের কাছে হেয় প্রতিপন্ন করা যায়, নিন্দিত করা যায়, সেই চেষ্টায় তার কোনো ত্রুটি ছিল না। ভাইপোকে গ্রামবাসীর কাছে কোণঠাসা করার জন্য মৃত্যুঞ্জয়ের অন্নপাপের কথা প্রচার করেছেন। মূলত খুড়া মৃত্যুঞ্জয়ের কুড়ি-পঁচিশ বিঘার বাগান নিজের নামে প্রতিষ্ঠার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করতেন।সারকথাঃ- মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি খুড়ার বৈরী মনোভাবের কারণ তার সম্পত্তি নিজের করে নেওয়ার লোভ।

গ) উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের প্রতিবন্ধকতা ঠেলে অসুস্থ মানুষের সেবা করার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।দায়িত্বশীলতা মানুষকে মহৎ করে। যে ব্যক্তি দায়িত্বশীল, নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে জানে সে সবার কাছে সমাদৃত। অন্যদিকে যে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে না বরং এড়িয়ে যায়, তাকে সবাই অপছন্দ করে। দায়িত্বশীল মানুষ মর্যাদায় ভূষিত হয় সর্বস্তরে। তাই প্রত্যেক মানুষের নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।উদ্দীপকে বৃদ্ধকে দেখা যায় মুমূর্ষু এক রোগীর সেবা করতে। রোগীর অসুখটি অত্যন্ত বীভৎস অবস্থায় গেলেও বৃদ্ধ একদম বিচলিত হয়নি। রোগীর মুখের আধখানা পচে যাওয়ায় চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। অন্যান্য মানুষ কাছে ভিড়তে পারে না। অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে নির্বিকারভাবে নিজের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছে। দিন-রাত এক করে সে রোগীর সেবা করেছে তাকে সুস্থ করে তোলার জন্য। 'বিলাসী' গল্পে মৃত্যুঞ্জয় অসুস্থ হলে তাকে সেবা করার কেউ থাকে না। একমাত্র বিলাসী দিন-রাত খেটে সব বাধা উপেক্ষা করে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে 'বিলাসী' গল্পের প্রতিবন্ধকতা ঠেলে অসুস্থ মানুষের সেবা করার দিকটির সাদৃশ্য রয়েছে।

সারকথাঃ- উদ্দীপকে বৃদ্ধকে দেখা যায় মুমূর্ষু রোগীর সেবা করতে। 'বিলাসী' 'গল্পে বিলাসীকেও দেখা যায় শয্যাশায়ী মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করতে। তারা দুজনেই অনেক প্রতিবন্ধকতার শিকার হলেও হাল ছাড়েনি। এই দিক থেকে উদ্দীপক ও 'বিলাসী' গল্পটি সাদৃশ্যপূর্ণ।

ঘ) উদ্দীপকের বৃদ্ধ বিলাসী গল্পের বিলাসী চরিত্রের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়।- মন্তব্যটি যথার্থ।মানুষের জীবনে চলার পথে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। সেসব সমস্যা নিয়ে বিচলিত হলে জীবনের গতি থেমে যায়। সমস্যাকে সমস্যা মনে না করে বরং তাকে জয় করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার নামই জীবন। অন্যদিকে সমস্যাকে গুরুত্ব দিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকার মধ্যে কোনো সার্থকতা নেই। উদ্দীপকে এক বৃদ্ধকে দেখা যায়, যে একজন মুমূর্ষু রোগীর সেবা করে গেছে নির্বিকারভাবে। যদিও রোগীর অবস্থা খুবই বীভৎস ছিল। তার মুখের আধখানা অংশ পচে যাওয়ায় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়ায় চারপাশে। হাসপাতালের অন্যান্য রোগী এতে আপত্তি জানায়। কিন্তু বৃদ্ধ তাতে মন না দিয়ে বরং রোগীর সেবা করার দিকে মনোযোগ দেয়। 'বিলাসী' গল্পে বিলাসী সাপুড়ের মেয়ে। মৃত্যুঞ্জয় পিতৃ-মাতৃহীন এক যুবক। সে গহিন জঙ্গলে তার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে অসুস্থ হয়ে একা পড়ে থাকলে তাকে তার জাতির কেউই সেবা করার জন্য এগিয়ে আসে না। বরং বিলাসী জাতি-ধর্ম সবকিছু ভুলে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসে। এদিকে নিচু জাতির হয়ে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করার জন্য গ্রামবাসী ও মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া বিলাসীকে প্রহার করে এবং গ্রাম থেকে বের করে দেন। এমন সংকটের সময়ও বিলাসী কেবল মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করার কথা চিন্তা করেছে। তাকে সেবা করে সুস্থ করেছে। এমনকি সাপের কামড়ে অকস্মাৎ মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পরে বিলাসীও আত্মহত্যা করে। এর মধ্য দিয়ে বিলাসীর মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসাবোধ প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বৃদ্ধের মাঝে সেবা করার বিষয়টি দেখা গেছে। নানান সমস্যার সম্মুখীন হয়েও সে অসুস্থ রোগীর সেবা করেছে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে। 'বিলাসী' গল্পে বিলাসী শুধু নিষ্ঠার সঙ্গে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবাই করেনি, বরং যখন জাতি-ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তখনও বিলাসী অটল থেকে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছে। তারা বিবাহ-পরবর্তী সাপুড়ে পেশায় দুজনে মনোনিবেশ করলেও বিলাসী চেয়েছে মৃত্যুঞ্জয় এগুলো থেকে দূরে থাকুক। এমনকি শেষ পর্যায়ে বিলাসীর আত্মহত্যার মধ্য দিয়ে ভালোবাসার যে বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। কিন্তু উদ্দীপকের বৃদ্ধের মাঝে এসব বিষয়ের প্রতিফলন ঘটেনি। তাই সেবা করার দিক থেকে উদ্দীপকের বৃদ্ধ এবং গল্পের বিলাসীর মিল থাকলেও অন্যান্য সব পরিস্থিতি বিবেচনায় বলা যায়, উদ্দীপকের বৃদ্ধ 'বিলাসী' গল্পের বিলাসী চরিত্রের সম্পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নয়।

সারকথাঃ- উদ্দীপকের বৃদ্ধের মাঝে কেবল সেবা করার বিষয়টিই লক্ষণীয়। বিলাসীর মতো আত্মত্যাগ, সংঘাত ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন সে সারকথা তাই উদ্দীপকের বৃদ্ধ আর বিলাসী' গল্পের বিলাসী এক নয়।

Ask2Ans এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 29 বার প্রদর্শিত
29 ডিসেম্বর 2023 "বাংলা সাহিত্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 47 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 81 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 116 বার প্রদর্শিত
06 নভেম্বর 2023 "বাংলা সাহিত্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
0 টি উত্তর 31 বার প্রদর্শিত
03 জানুয়ারি "স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (573 পয়েন্ট)
...