আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
33 বার প্রদর্শিত
"ইসলাম শিক্ষা" বিভাগে করেছেন (502 পয়েন্ট)

সহিফাসহ মোট আসমানি গ্রন্থ কয়টি?

সুরা বাকারার আলোকে মুনাফিকদের পরিচয় দাও।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (502 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

=> আদনান সাহেব একজন সৎ ও সচেতন মানুষ। সমাজের নানাবিধ অন্যায়/অনাচারের প্রতিবাদ করায় তিনি অনেকের বিরাগভাজন হন। একবার সন্ত্রাসীরা তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং নানাভাবে হেনস্তা করে। মসজিদের ইমাম সাহেব আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, 'আজ সমাজে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী তারা ভালো মানুষের লেবেল পড়ে আছে। অথচ তারাই সন্ত্রাসীদের মদদদাতা। সমাজকে অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে হলে এদের শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। অতঃপর তিনি নিম্নোক্ত আয়াত তিলাওয়াত করেন-

وإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مصْلِحُونَ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَكِن لَّا يَشْعُرُونَ.

ক. সহিফাসহ মোট আসমানি গ্রন্থ কয়টি?

খ. সুরা বাকারার আলোকে মুনাফিকদের পরিচয় দাও।

গ. আদনান সাহেবের কাজের যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করো।

ঘ. ইমাম সাহেবের বক্তব্যের সাথে তুমি কি একমত? তোমার মতের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন কর।


প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) সহিফাসহ মোট আসমানি গ্রন্থ-১০৪টি।


খ) মুনাফিক বলতে তাদেরকে বোঝায়, যারা মৌখিকভাবে ইমানের ঘোষণা দেয় কিন্তু অন্তরে অবিশ্বাস করে।সুরা বাকারার আলোকে মুনাফিকের পরিচয় হলো- তারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ইমান আনয়নের কথা বলে আল্লাহ ও ইমানদারদের ধোঁকা দেয়। মুসলমানদের সাথে মিলিত হলে বলে আমরা ইমান এনেছি, আবার অন্যদের সাথে মিলিত হলে বলে আমরাতো তোমাদের সাথেই রয়েছি। তাদের আরেকটি পরিচয় হলো তাদেরকে পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নিষেধ করা হলে তারা বলে, আমরাতো শান্তি স্থাপনকারী।


উদ্দীপকঃ-

=> সুমনের কথা-বার্তা ও চাল-চলন তার দ্বিমুখী চরিত্রের প্রমাণ বহন করে। তিনি সবসময় মুখে একরকম কথা বলেন অন্তরে অন্যরকম ধারণা পোষণ করেন। নিজের প্রয়োজনে মিথ্যা কথা বলে সমাজে বিবাদ বাধানোর চেষ্টা করেন। কারও সাথে কথা কাটাকাটি বা ঝগড়া হলে অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করেন। সমাজের নির্ভেজাল লোকজন তার থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন।


খ. অনুবাদ লেখ: وَمَا يَحْدَعُوْنَ إِلَّا أَنْفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ آمَنُوا يُخَادِعُوْنَ اللَّهَ وَالَّذِينَ.

গ. আল কুরআনের ভাষায় সুমনকে কী নামে অভিহিত করা যায়? সুরা বাকারার আলোকে ব্যাখ্যা করো।

ঘ. সুমনের মতো মানুষের মাধ্যমে সমাজে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।


 প্রশ্নের উত্তরঃ-

খ) আলোচ্য আয়াতে মুনাফিকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। অনুবাদ : তারা আল্লাহ এবং যারা ইমান এনেছে তাদের ধোঁকা দেয়। কিন্তু তারা তাদের নিজেদের ব্যতীত আর কাউকেই ধোঁকা দেয় না। আর তারা তা অনুধাবন করে না।


গ) আল কুরআনের ভাষায় সুমনকে মুনাফিক (ভণ্ড, প্রতারক, দ্বিমুখী নীতি বিশিষ্ট) নামে অভিহিত করা যায়।

আল কুরআনের সুরা আল বাকারার ২য় রুকুর আয়াতসমূহ মুনাফিকদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের স্বরূপ উন্মোচন করে। যারা মুখে ইমান আনে এবং নিজেদের মুসলিম বলে পরিচয় দেয়, কিন্তু অন্তরে আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাস পোষণ করে, তারা-ই মুনাফিক। এরা মিথ্যা কথা বলে এবং অন্যের সাথে প্রতারণা করে। যা সুমনের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়।উদ্দীপকের সুমন দ্বিমুখী চরিত্রের লোক। অর্থাৎ তিনি মুখে একরকম বলেন, কিন্তু অন্তরে অন্য ধারণা পোষণ করেন। এটি মুনাফিকদের একটি বৈশিষ্ট্য। সুরা আল বাকারার ২য় রুকুর ৮ নং আয়াতে মুনাফিকদের এরূপ দ্বিমুখী আচরণের কথা বলা হয়েছে। আবার সুমন মিথ্যা কথা বলেন। সুরা বাকারার ১০ নং আয়াতে মুনাফিকদের মিথ্যাবাদী বলা হয়েছে। তাছাড়া সুমন অন্যের সাথে প্রতারণা করেন এবং অন্যকে ধোঁকা দেন। কিন্তু এর মাধ্যমে তিনি প্রকৃতপক্ষে নিজের অজ্ঞাতসারে নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে তিনি মহাবিভ্রান্তির মধ্যেই জীবনযাপন করছেন। সুতরাং বলা যায়, সুমন এর জীবনাচরণ একজন মুনাফিকের মতোই।


ঘ) সুমনের মতো মুনাফিকদের মাধ্যমে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।যাদের কথা ও কাজের মধ্যে মিল থাকে না, অর্থাৎ মিথ্যা কথা বলে, ওয়াদা ভঙ্গ করে এবং আমানতের খিয়ানত করে তাদেরকে মুনাফিক বলা হয়। মুনাফিক সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর ব্যক্তি। মুনাফিক ব্যক্তি অন্তরে বিরোধিতা রেখে বাইরে আনুগত্য প্রদর্শন করে। সুমনের কর্মকাণ্ডে যার প্রতিফলন ঘটেছে।উদ্দীপকের সুমন কথা-বার্তায় দ্বিমুখী নীতি, মুখে একরকম আর অন্তরে একরম বিশ্বাস পোষণ করে, মিথ্যা বলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। বস্তুত মুনাফিকরা পাপাচারী এবং পথভ্রষ্ট। তারা অন্তরে কুফরি লালন করে, মুখে ইমানের দাবি পেশ করে। তাদের এ দাবি যেমন মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তেমনি আরো হাজারো মিথ্যায় তারা আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা থাকে। তারা মানুষে মানুষে শত্রুতা সৃষ্টির, চেষ্টা করে। সুসম্পর্ক বিনষ্ট করতে অপতৎপরতা চালায়। মুনাফিকরা নিজেদের তুচ্ছ ও ক্ষুদ্র স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মিথ্যা তথ্য ও সংবাদের মাধ্যমে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তারা তাদের নিরাপত্তা, শক্তিমত্তা ও অর্থসম্পদের শতভাগ সংরক্ষণ সম্পন্ন করতে কাফির, মুশরিক ও মুমিনদের খামোখাই যুদ্ধের পথে ঠেলে দেয়। মুনাফিকদের নেতিবাচক ভূমিকার জন্য শান্ত-সুখময় মানবসমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা নেমে আসে। জনজীবনও বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত হয়।

সুতরাং সুখময় জীবনের জন্য মুনাফিকদের যাবতীয় ফিতনা ফাসাদ থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক।

287 টি প্রশ্ন

288 টি উত্তর

1 মন্তব্য

177 জন সদস্য

Ask2Ans এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 30 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 51 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 24 বার প্রদর্শিত
16 ডিসেম্বর 2023 "ইসলাম শিক্ষা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (502 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 59 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 39 বার প্রদর্শিত
18 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (574 পয়েন্ট)
Follow us on Google News
...