আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
29 বার প্রদর্শিত
"বাংলা সাহিত্য" বিভাগে করেছেন (513 পয়েন্ট)

কোনটি লেখকের পক্ষে অবনতিকর?

সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর কেন? ব্যাখ্যা কর।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (513 পয়েন্ট)

উদ্দীপকের বিষয়ঃ- সাহিত্যের উদ্দেশ্য সত্য ও সুন্দরের কথা বলা-এর আলোকে প্রণীত।


=> শিল্পের বাণী বা বক্তব্য খুবই বলিষ্ঠ এবং শক্তিশালী। শিল্প যা বলে, চিরন্তন হয়ে থাকে, ধর্মীয় বাণীর মতোই বিশ্বাস্য ও অনিন্দ্য মনে হয়। মূলত ধর্ম আত্মার কথা বলে, শিল্প বলে চরিত্রের কথা। (তথ্যসূত্র: ধর্ম শিল্পকলা ইব্রাহীম মণ্ডল)


ক. কোনটি লেখকের পক্ষে অবনতিকর?

খ. সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর কেন? ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকটি "বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন" প্রবন্ধের কোন বিষয়টিকে নির্দেশ করে? 

ঘ. উদ্দীপকটি কি আলোচ্য প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক নির্দেশে সমর্থ? তোমার মতামত ব্যক্ত কর।


⇒ প্রশ্নের উত্তরঃ-


ক) সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে অবনতিকর।


খ) সাময়িক সাহিত্যে অনেক দোষ থেকে যায় বলেই তা লেখকের পক্ষে অবনতিকর।

বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক মনে করেন, লেখা কিছুকাল ফেলে রেখে সংশোধন করলে লেখার অনেক উন্নতি সাধিত হয়। কিন্তু যারা লিখেই ছাপানোর জন্য তৎপর হন তাদের লেখায় অনেক ত্রুটি থেকে যায়। প্রবন্ধ, কাব্য, নাটক, উপন্যাস কিছুকাল ফেলে রেখে সংশোধন করার পরামর্শ দিয়েছেন আলোচ্য প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক। কিন্তু যারা সাময়িক সাহিত্যে ব্রত তাদের পক্ষে এ নিয়মটি রক্ষা করা সম্ভব হয় না। তাই সাময়িক সাহিত্য লেখকের পক্ষে কোনো ভালো ফল বয়ে আনে না, অবনতি ছাড়া।

সারকথাঃ- সাময়িক সাহিত্যে সংশোধনের সুযোগ থাকে না, তাই তা লেখকের পক্ষে অবনতিকর।


গ) উদ্দীপকে 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের সতা ও ধর্মই যে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সেই বিষয়টি নির্দেশ করে।

সাহিত্য মানুষের কথা বলে। মানুষ ছাড়া সাহিত্য একপ্রকার অসম্ভব। তাই মানুষের কল্যাণে সত্য ও ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করা সাহিত্যের অন্যতম কাজ। তা না হলে সাহিত্য তার গতিপথ থেকে বিচ্যুত হয়।উদ্দীপকের প্রাবন্ধিক ইব্রাহীম মন্ডল বলেন, শিল্পের বর্ণনা বা বক্তব্য খুবই বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী। শিল্পের বাণী বা বক্তব্য হয়ে থাকে চিরন্তন। এই চিরন্তন বাণী ধর্মীয় বাণীর মতোই বিশ্বাসযোগ্য ও চিরন্তন হয়ে থাকে। অর্থাৎ প্রাবন্ধিক বলতে চেয়েছেন- সাহিত্যের কথা ও ধর্মের কথা একটি অন্যটি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আলোচ্য প্রবন্ধেও আমরা তেমনটা দেখতে পাই। প্রাবন্ধিক বলেন- যা অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা, পরপীড়ন কিংবা স্বার্থসাধন যার উদ্দেশ্য সেসব লেখা কখনো হিতকর বা কল্যাণকর হতে পারে না। তাই সাহিত্যে তা বর্জন করতে হবে। অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ বক্তব্য, পরনিন্দা, পরপীড়ন এবং স্বার্থসাধনের উর্ধ্বে উঠে সত্য ও ধর্মের কথা সাহিত্যে তুলে আনতে হবে। কারণ সত্য ও ধর্মই হলো সাহিত্যের উদ্দেশ্য। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের সত্য ও ধর্মই যে সাহিত্যের উদ্দেশ্য সেই বিষয়টি নির্দেশ করে।

সারকথা: সত্য ও ধর্ম একটি অন্যটির পরিপূরক। ধর্ম ও সত্য ছাড়া মহৎ সাহিত্য কল্পনা করা যায় না। উদ্দীপক ও 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে এমনটাই বলা হয়েছে।



ঘ) না, উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক নির্দেশে সমর্থক নয়।

সত্য ও ধর্ম ছাড়া কোনোকিছুই কল্পনা করা যায় না। এটি সাহিত্যের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। যে সাহিত্য সত্য ও ধর্মের পথ থেকে বিচ্যুত সেই সাহিত্য মানুষের জন্য রচিত হতে পারে না। যে সাহিত্য মানুষের জন্য রচিত সেখানে সত্য ও ধর্ম থাকা অনিবার্য।উদ্দীপকে সাহিত্যের বাণীর সঙ্গে ধর্মের বাণীর তুলনা করা হয়েছে। উদ্দীপকের প্রাবন্ধিক বলেন, শিল্প চিরন্তন এবং ধর্মীয় বাণীর মতোই তা বিশ্বাস্য ও অনিন্দ্য। তাছাড়া প্রাবন্ধিক আরও বলেন, শিল্প চরিত্রের কথা বলে এবং ধর্ম বলে আত্মার কথা। চরিত্রের মধ্যে আত্মা প্রতিষ্ঠিত না হলে ধর্ম রক্ষিত হয় না। তাই সাহিত্যে ধর্ম রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়াটি 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধেও বলা হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়টি ছাড়াও আরও অনেক বিষয় প্রবন্ধে উঠে এসেছে সেসব বিষয় উদ্দীপকে অনুপস্থিত।'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধের প্রাবন্ধিক নতুন লেখকদের প্রতি কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন- যশ ও অর্থের জন্য লেখা যাবে না; মানুষের কল্যাণ না হলে লেখা যাবে না; অসত্য, ধর্মবিরুদ্ধ, পরনিন্দা, পরপীড়ন বা স্বার্থসাধন সাহিত্যের মাধ্যমে করা যাবে না; লিখেই ছাপানোর কথা চিন্তা করা যাবে না; বিদ্যা প্রকাশের চেষ্টা করা যাবে না: অলংকার প্রয়োগ বা রসিকতার ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে প্রভৃতি আরও অনেক বিষয়ে প্রাবন্ধিক পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু উদ্দীপকে কেবল সাহিত্যের সঙ্গে ধর্ম ও সত্যের যোগসূত্রের বিষয়টি উপস্থাপিত হয়েছে। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকটি আলোচ্য প্রবন্ধের সামগ্রিক দিক নির্দেশে সমর্থ নয়।

সারকথাঃ- সত্য ও ধর্ম ছাড়া সাহিত্য কল্পনা করা যায় না। উদ্দীপকে সত্য ও ধর্মের কথা বলা হলেও 'বাঙ্গালার নব্য লেখকদিগের প্রতি নিবেদন' প্রবন্ধে সত্য ও ধর্ম ছাড়াও আরও অনেক বিষয় উঠে এসেছে যেগুলো উদ্দীপকে অনুপস্থিত।

Ask2Ans এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 17 বার প্রদর্শিত
09 জানুয়ারি "বাংলা সাহিত্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 47 বার প্রদর্শিত
08 জানুয়ারি "বাংলা সাহিত্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 23 বার প্রদর্শিত
08 জানুয়ারি "বাংলা সাহিত্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 51 বার প্রদর্শিত
07 জানুয়ারি "বাংলা সাহিত্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 18 বার প্রদর্শিত
...