আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
30 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন (513 পয়েন্ট)

  • সমাজকর্মকে কোন ধরনের বিজ্ঞান বলা হয়?
  • সমাজের অসহায় মানুষকে সমাজকর্ম কেন সাহায্য করে?
  • সমাজকর্ম প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?
  • সমাজকর্ম কীভাবে মানুষকে সাহায্য করে?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (513 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

=> আব্দুল আজিজ একজন দরিদ্র কৃষক। তার নিজস্ব এক খণ্ড জমি আছে। সেখানে তিনি ফসল চাষ করেন। কিন্তু জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে তিনি কৃষিকাজে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে পারেন না।

ক. সমাজকর্মকে কোন ধরনের বিজ্ঞান বলা হয়?

খ. সমাজের অসহায় মানুষকে সমাজকর্ম কেন সাহায্য করে?

গ. আব্দুল আজিজকে সমাজকর্মের জ্ঞান কীভাবে সাহায্য করে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. আব্দুল আজিজের জ্ঞানের স্বল্পতা লাঘবই সমাজকর্মের ভাষায় ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো- তুমি কি এর সাথে একমত? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।


 প্রশ্নের উত্তর:-

ক) সমাজকর্মকে অনুশীলনধর্মী সামাজিক বিজ্ঞান বলা হয়।


খ) অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থ-মনো-সামাজিক সমস্যার সমাধান এবং তাদেরকে উন্নয়নের স্রোতধারায় যুক্ত করতে সমাজকর্ম সাহায্য করে। সমাজ বা রাষ্ট্রের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে এ পেশার কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কেননা রাষ্ট্রের একটি বড় অংশ যদি নানামুখী সমস্যায় বিপর্যস্ত থাকে তবে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই সমাজকর্ম নিজস্ব পদ্ধতি ও কৌশল অনুসরণের মাধ্যমে দরিদ্রদের জন্য সাহায্য প্রক্রিয়া চালায়।


গ) সমাজকর্ম আব্দুল আজিজকে কৃষিক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করার জ্ঞান দিয়ে সাহায্য করে থাকে।

সমাজকর্ম বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নির্ভর সমস্যা সমাধান ও সাহায্যকারী প্রক্রিয়া। সমাজের সবশ্রেণির মানুষের ব্যক্তিগত দলীয় ও সমষ্টি সমস্যাসহ নানা সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সমাজকর্ম কাজ করে। পাশাপাশি সমাজকর্ম অবহেলিত জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করে থাকে।বাংলাদেশের মতো অনুন্নত দেশে কৃষকরা জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে না। ফলে তাদের উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়। উদ্দীপকের আব্দুল আজিজের ক্ষেত্রেও আমরা একই চিত্র দেখতে পাই। এক্ষেত্রে সমাজকর্মের জ্ঞান তাকে বিশেষভাবে সহায়তা করবে। সমাজকর্মী তাকে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের উপকারিতা সম্পর্কে জানাবেন। এ সকল প্রযুক্তি সঠিকভাবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরবেন। এছাড়া এই শিক্ষার প্রয়োগ করে আব্দুল আজিজ তার উৎপাদনের পরিমাণ পূর্বের তুলনায় বাড়াতে পারবেন।এভাবে সমাজকর্মের জ্ঞান আব্দুল আজিজকে সহায়তা করবে।


ঘ) আব্দুল আজিজের জ্ঞানের স্বল্পতা লাঘবই সমাজকর্মের ভাষায় ক্ষমতার বিকাশ ঘটানো-আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।সমাজকর্ম মানুষকে এমনভাবে সাহায্য করে যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের সাহায্য করতে পারে। সমাজকর্ম মানুষের সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ সাধন করে তাকে স্বাবলম্বী করে তোলে। এর ফলে মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটে এবং এভাবে সমাজের উন্নতি ত্বরান্বিত হয়।নিজস্ব মেধা, মননশীলতা, শ্রম, বুদ্ধি-বিবেচনা প্রভৃতিকে কাজে লাগিয়ে সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীব হিসেবে নিজেকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করাই হলো সক্ষমতা অর্জন। সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি সমাজের কল্যাণে গতিশীল ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যের দান, অনুগ্রহ ও করুণার মাধ্যমে কখনোই ব্যক্তির সুপ্ত ক্ষমতা বা প্রতিভার বিকাশ ঘটে না। ফলে ব্যক্তির সৃজনশীলতা ও সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাপ্রাপ্ত হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম মানুষকে স্বনির্ভর হতে সাহায্য করে।

উদ্দীপকে আব্দুল আজিজ একজন কৃষক। জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে তিনি কৃষিক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারেন না। এর ফলে উৎপাদনের পরিমাণ কম হয়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মের জ্ঞান আব্দুল আজিজকে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহারের শিক্ষা দেয়। এই জ্ঞান তার সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তাকে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। এভাবে তিনি নিজেই নিজের সমস্যা সমাধানে সক্ষম হয়ে ওঠেন। সার্বিক আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সমাজকর্ম ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা মোকাবিলায় তাদেরকে সক্রিয় করে তোলে। এর ফলে সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে তারা উন্নয়ন কার্যক্রমকে গতিশীল করে।


উদ্দীপকঃ-

=> শারমিন তার গ্রামে অসুবিধাগ্রস্ত লোকদের সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সমস্যাগ্রস্ত মানুষের জন্য অনুকুল পরিবেশ তৈরি করাই তার সংগঠনের লক্ষ্য।


প্রশ্ন-

ক. সমাজকর্ম প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ কী?

 খ. সমাজকর্ম কীভাবে মানুষকে সাহায্য করে?

গ. উদ্দীপকে শারমিনদের গ্রামে সমাজকর্মের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর। 

ঘ. উদ্দীপকে শারমিনদের গড়ে তোলা সংগঠনের মধ্যে তোমার পঠিত পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে? শনাক্ত কর। 


প্রশ্নের উত্তর:-


ক সমাজকর্ম প্রত্যয়টির ইংরেজি প্রতিশব্দ Social Work।


খ) সমাজকর্ম নিজস্ব পদ্ধতি ও কৌশলের মাধ্যমে সমস্যাগ্রস্ত মানুষকে নিজের সমস্যা মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে উঠতে সাহায্য করে। সমাজকর্ম বর্তমান বিশ্বে একটি মানবসেবামূলক সাহায্যকারী পেশা হিসেবে স্বীকৃত। এটি ব্যক্তি, দল ও সমষ্টির সমস্যা সমাধানে এমনভাবে সহায়তা করে যেন তারা নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারে। পেশাগত কাঠামোর মধ্যে থেকে সমাজকর্ম এভাবেই সমস্যা সমাধান মানুষকে সাহায্য করে।


গ) উদ্দীপকে শারমিনদের গ্রামে সমাজকর্মের গুরুত্ব অপরিসীম।সমাজকর্ম সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ব্যক্তিগত, দলীয় ও সমষ্টি সমস্যাসহ নানা ধরনের সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য কাজ করে। এসব কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে সমাজকর্ম বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, প্রক্রিয়া ও কৌশল উদ্ভাবন করে সমস্যার পরিপূর্ণ সমাধানে চেষ্টা চালায়। পাশাপাশি সমাজকর্ম সকল স্তরের জনগোষ্ঠী বিশেষ করে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য চাহিদাভিত্তিক সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করে। উদ্দীপকে শারমিন তার গ্রামে অসুবিধাগ্রস্ত লোকদের সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলার জন্য একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সমস্যাগ্রস্ত মানুষের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই তার সংগঠনের লক্ষ্য। তার সংগঠনের এ উদ্দেশ্যটি সমাজকর্মের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ কারণে শারমিনদের গ্রামে সমাজকর্মের গুরুত্ব রয়েছে। সমাজকর্মের প্রতিকার, প্রতিরোধ এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের আওতায় তাদের গ্রামের সামাজিক সমস্যাসমূহ দূর করা সম্ভব। সমাজকর্ম জ্ঞানের প্রয়োগ করে শারমিনদের গ্রামের মানুষের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে তাদেরকে স্বাবলম্বী করা যাবে। এর জ্ঞান প্রয়োগ করে গ্রামের মানুষের ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে। তাই বলা যায়, শারমিনদের গ্রামের সার্বিক উন্নয়নে সমাজকর্মের গুরুত্ব রয়েছে।


ঘ) উদ্দীপকে শারমিনের গড়ে তোলা সংগঠনের মধ্যে সমাজকর্ম বিষয়ের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের প্রতিফলন ঘটেছে।

সমাজে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে মানুষকে সামাজিক পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য স্থাপনে সক্ষম করে তোলার জন্যই সমাজকর্মের উদ্ভব ঘটেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক ভূমিকা পালনের জন্য সমাজের প্রতিটি স্তরের জনগণকে সক্রিয় ও সক্ষম করে তোলা। মূলত সমাজকর্মের লক্ষ্য হলো সমাজজীবন থেকে যেকোনো জটিল সমস্যা দূর করে পরিকল্পিত উপায়ে কাঙ্ক্ষিত ও গঠনমূলক সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ উদ্দেশ্যে সমাজকর্ম জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে সব মানুষের ব্যক্তিগত, দলীয় ও সমষ্টিগত সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে। আধুনিক জটিল সমাজে জনগণকে সকল পরিবর্তিত অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য বিধানে সাহায্য করে সমাজকর্ম। মানুষের সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ সাধন করে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে সমাজকর্ম বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করে। এক্ষেত্রে এটি নিজস্ব সম্পদের ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে। আবার, প্রতিটি ব্যক্তির রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি কিছু দায়িত্ব ও কর্তব্য থাকে যা সুষ্ঠুভাবে পালন না করলে সমাজে ভারসাম্যহীনতা দেখা যায়। এ রকম পরিস্থিতিতে ব্যক্তিকে তার সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম করে তোলার লক্ষ্যে সমাজকর্ম বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে।

উদ্দীপকে শারমিনের গড়ে তোলা সংগঠনটি অসুবিধাগ্রস্ত লোকদের সামাজিক ভূমিকা পালনে সক্ষম ও সক্রিয় করে তোলে। তার সংগঠনটির লক্ষ্য সমাজকর্মের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, শারমিনের গড়ে তোলা সংগঠন সমাজকর্মের উদ্দেশ্যকে প্রতিফলিত করে।

Ask2Ans এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 34 বার প্রদর্শিত
07 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (573 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 48 বার প্রদর্শিত
09 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 44 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 11 বার প্রদর্শিত
18 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (573 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 53 বার প্রদর্শিত
18 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (573 পয়েন্ট)
...