আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
19 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন (573 পয়েন্ট)

  • আল বিরুনি কে ছিলেন?
  • সোমনাথ অভিযানের বর্ণনা দাও।
  • সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ ব্যাখ্যা কর।

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (573 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

=> গজাদি থেকে সবুক্তগীন বংশধরদের অবসান ঘটলে ঘুরী বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক গজনির শাসক হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। তিনি তার রণকৌশলের দ্বারা ভারতের অনেক রাজ্য তার সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তরাইনের প্রথম যুদ্ধে তিনি পরাজিত হলেও দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভ করেন। তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ভারতের ইতিহাসে একটি সিদ্ধান্তকারী যুদ্ধ। তিনি ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।


ক. আল বিরুনি কে ছিলেন?

খ. সোমনাথ অভিযানের বর্ণনা দাও।

গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘুরী বংশের শাসক কীভাবে তরাইনের ২য় যুদ্ধে জয়লাভ করেছেন? বর্ণনা দাও।

ঘ. তরাইনের ২য় যুদ্ধকে সিদ্ধান্তকারী যুদ্ধ বলার কারণ বিশ্লেষণ কর।


 প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) আল বিরুনি ছিলেন মধ্যযুগের বিশ্বখ্যাত আরবীয় শিক্ষাবিদ ও গবেষক, যিনি ৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে উজবেকিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন।


গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘুরী বংশের শাসক অর্থাৎ মুহম্মদ ঘুরী তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজয়ের গ্লানি থেকে সৃষ্ট প্রতিশোধের স্পৃহা এবং উন্নত রণকৌশলের কারণে তরাইনের ২য় যুদ্ধে জয়লাভ করেন।তরাইনের প্রথম যুদ্ধে (১১৯১ খ্রি.) পরাজয়ের গ্লানি মুহম্মদ ঘুরীকে প্রতিশোধ স্পৃহায় উদ্দীপ্ত করে তোলে। এ অবস্থায় ১১৯২ খ্রিষ্টাব্দে ১,২০,০০০ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তিনি পুনরায় যুদ্ধযাত্রা শুরু করেন। মুসলিম বাহিনীর মোকাবিলায় পৃথ্বিরাজ তিন লক্ষ সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী সংগঠিত করেন। থানেশ্বরের তরাইন প্রান্তরে উভয় বাহিনী মুখোমুখি হয়। এ যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী বিজয় অর্জনে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রাণপণ যুদ্ধ করে। তাই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা সত্ত্বেও সম্মিলিত রাজপুত বাহিনী মুহম্মদ ঘুরীর উন্নত রণকৌশলের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। পলায়নরত অবস্থায় রাজা পৃথ্বিরাজ ধৃত ও পরে নিহত হন।

উদ্দীপকে বলা হয়েছে- একজন শাসক তার রণকৌশলের দ্বারা ভারতের অনেক রাজ্য সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। তিনি তরাইনের প্রথম যুদ্ধে পরাজিত হলেও দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভ করেন, যা মুহম্মদ ঘুরীর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের শাসক হলেন মুহম্মদ ঘুরী এবং তিনি মূলত উন্নত রণকৌশলের কারণেই তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে জয়লাভ করেন।


ঘ) তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। এ যুদ্ধকে সিদ্ধান্তকারী যুদ্ধ বলার কারণ হলো- এর মাধ্যমে ভারতবর্ষে স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হয়।

১১৯২ খ্রিস্টাব্দে সংঘটিত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধকে চূড়ান্ত সংঘর্ষ হিসেবে গণ্য করা হয়। কারণ এটি হিন্দুস্থানের ওপর মুসলিম আক্রমণের চরম সাফল্যের সূচনা করেছিল। একদিকে এ বিজয় ছিল একজন দৃঢ়সংকল্প বিজেতার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে পরিচালিত কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং অপরদিকে এটি ছিল পুরো দ্বাদশ শতাব্দী ধরে বিস্তৃত একটি ধারার সফল পরিণতি। বস্তুত তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে রাজপুতদের রাজনৈতিক শক্তি খর্ব হয় এবং তারা মুসলমানদের প্রতিরোধ করার শক্তি হারিয়ে ফেলে। ফলে ভারতীয় রাষ্ট্রগুলোর ওপর মুহম্মদ ঘুরীর চূড়ান্ত কর্তৃত্ব সুনিশ্চিত হয়। এ কারণেই এ বি এম হবীবুল্লাহ বলেন, মুহম্মদ ঘুরীর এ বিজয় কোনো বিক্ষিপ্ত ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিজয় কিংবা দৈব ঘটনা ছিল না। মূলত উল্লিখিত কারণগুলোর উপর ভিত্তি করেই তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধকে সিদ্ধান্তকারী যুদ্ধ বলা হয়।


উদ্দীপকঃ-

=> ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আবির্ভাব ঘটানোর জন্য যে মহানায়কের ভূমিকা ছিল অম্লান তার মৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কেউ বলেন দুজন নারীর সতীত্ব হননের জন্য খলিফা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আবার কেউ বলেন রাজদরবারের ষড়যন্ত্র তার মৃত্যুর কারণ। বিষয়টি দুঃখজনক যে তার মতো শ্রেষ্ঠ সেনাপতি, রাজনীতিবিদ ও শাসকের মৃত্যুর সত্যিকার রহস্য উদঘাটিত হবে না।

ক. দেবল বন্দর কোথায় অবস্থিত?

খ. সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ ব্যাখ্যা কর।

গ. উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের যে মহান শাসকের কথা বলা হয়েছে তার মৃত্যুর বিষয়টি ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি মনে কর সিন্ধু অভিযানে উক্ত শাসকের ভূমিকা ছিল অপরিসীম? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।

 প্রশ্নের উত্তরঃ-


ক) দেবল বন্দর সিন্ধুতে অবস্থিত।


খ) সিন্ধু অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ হলো সিন্ধুর দেবল বন্দরে জলদস্যুদের মুসলমানদের ৮টি জাহাজ লুন্ঠন।

অষ্টম শতাব্দীর শুরুর দিকে সিংহলের রাজা আটটি উপঢৌকনপূর্ণ জাহাজ খলিফা ওয়ালিদ ও হাজ্জাজের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। যাত্রাপথে জাহাজগুলো সিন্ধুর দেবল বন্দরে উপস্থিত হলে সেগুলো জলদস্যু কর্তৃক লুষ্ঠিত হয়। হাজ্জাজ রাজা দাহিরের নিকট এর প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করলে দাহির সে দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। দাহিরের উদ্ধত আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ সিন্ধু ও মুলতান অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন, যা সিন্ধু ও মুলতান অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ।


গ) উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের যে মহান শাসকের কথা বলা হয়েছে, তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন কাসিম। তার মৃত্যুর বিষয়টি সত্যিই খুব দুঃখজনক। 'চাচনামা' গ্রন্থের বিবরণ হতে জানা যায়, মুহাম্মদ বিন কাসিম বন্দি রাজা দাহিরের দুই কন্যা সূর্যদেবী ও পরিমল দেবীকে দামেস্কে খলিফা সুলায়মানের নিকট প্রেরণ করেন। তারা খলিফার নিকট অভিযোগ করেন যে, দামেস্কে প্রেরণের পূর্বে মুহাম্মদ বিন কাসিম তাদের শ্লীলতাহানি করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে খলিফা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে লবণ মিশ্রিত গরুর চামড়ার থলিতে পুরে রাজধানীতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঐতিহাসিক তারিখ-ই-মাসুমির বর্ণনা মতে, চামড়ার থলিতে আবদ্ধ অবস্থায় তিন দিন পরে তার মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে রাজকুমারীগণ খলিফাকে বলেন, মুহাম্মদ বিন কাসিমের বিরুদ্ধে তাদের আনীত অভিযোগ মিথ্যা। পিতৃহত্যার প্রতিশোধ নিতেই তারা এরূপ অভিযোগ করেছিল। আবার কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফের প্রতি খলিফা সুলায়মানের ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তার জামাতা মুহাম্মদ বিন কাসিমকে প্রাণ দিতে হয়েছিল। 'ফতুছুল বুলদানে' উল্লেখ করা হয়েছে, খলিফার নির্দেশে মুহম্মদ বিন কাসিমকে রাজধানী দামেস্কে এনে কারারুদ্ধ করে খলিফার আদেশ নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, একজন শাসকের মৃত্যু নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। কেউ কেউ বলেন দুজন নারীর সতীত্ব হননের জন্য খলিফা তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন। আবার কেউ বলেন রাজদরবারের ষড়যন্ত্রের কারণে তার মৃত্যু ঘটে। উপর্যুক্ত আলোচনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উদ্দীপকের মৃত্যুর ঘটনাটি মুহম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর সাথে সংগতিপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে পাঠ্যবইয়ের যে শাসকের কথা বলা হয়েছে তিনি হলেন মুহম্মদ বিন কাসিম।


ঘ) হ্যাঁ, আমি মনে করি সিন্ধু অভিযানে উক্ত শাসক অর্থাৎ মুহম্মদ বিন কাসিমের ভূমিকা ছিল অপরিসীম।খলিফা ওয়ালিদের অনুমতিক্রমে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ভারতবর্ষে পরপর দুটি অভিযানে অংশগ্রহণ করে ব্যর্থ হন। কিন্তু তিনি ব্যর্থতায় হতোদ্যম না হয়ে ৭১১ খ্রিস্টাব্দে তার জামাতা সতেরো বছর বয়সী তরুণ সেনাপতি মুহম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে পুনরায় অভিযান প্রেরণ করেন। সাহসী বীর সেনাপতি মুহম্মদ বিন কাসিম ৬,০০০ সিরীয় ও ইরাকি সৈন্য, ৬,০০০ উদ্ভারোহী এবং ৩০০০ রসদবাহী উন্ট্র নিয়ে ৭১১ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধুর দিকে যাত্রা করে মেকরানে উপস্থিত হন। মেকরানের শাসনকর্তা হারুন আক্সে সৈন্য দিলে সমন্বিত বাহিনী নিয়ে মুহম্মদ বিন কাসিম ৭১২ খ্রিষ্টাব্দে সিন্ধুর দেবল বন্দর আক্রমণ করেন।, দেবল মুসলমানদের হস্তগত হলে মুসলিম বাহিনী প্রায় বিনা বাধায় নিরুন, সিওয়ান এবং সিসাম জয় করে। আরব বাহিনীর ক্রমাগত বিজয়ে সিন্টুর রাজা দাহির বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি ৫০,০০০ সৈন্যের এক বাহিনী নিয়ে মুসলিম বাহিনীকে প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে রাওয়ারে উপস্থিত হন। ৭১২ খ্রিষ্টাব্দের ২০ জুন মুহম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে মুসলিম বাহিনী ও দাহিরের বাহিনীর চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে রাজা দাহির পরাজিত ও নিহত হন। ফলে সিন্ধু মুসলমানদের দখলে আসে।

উপযুক্ত আলোচনা বিশ্লেষণপূর্বক বলা যায়, যখন হাজ্জাজ বারবার পরাজিত হচ্ছিলেন তখন মুহম্মদ বিন কাসিম তার সুকৌশল নেতৃত্ব দিয়ে সিন্ধু বিজয় করেন। তাই বলা যায়, সিন্ধু অভিযানে মুহম্মদ বিন কাসিমের অবদান অতুলনীয়।

Ask2Ans এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 39 বার প্রদর্শিত
25 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 54 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 59 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 71 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 67 বার প্রদর্শিত
23 নভেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (573 পয়েন্ট)
...