আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
68 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন (569 পয়েন্ট)

  • আল বিরুনির সিন্ধু বিজয় সম্বন্দ্বে লিখিত গ্রন্থটির নাম কী?
  •  হাজি শরিয়তউল্লাহর পরিচয় দাও।
  • তরাইনের প্রথম যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (569 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-

=> অস্ট্রেলিয়ার একটি আদিম উপজাতি সূর্য দেবতার মন্দিরকে সবচেয়ে নিরাপদ ও শক্তির আধার মনে করে তাদের সকল ধন-সম্পদ সেখানে গচ্ছিত রাখে। তাদের বিশ্বাস শত্রু যতই শক্তিশালী হোক সূর্য দেবতা তাদের রক্ষা করবে। মন্দিরে ধন সম্পদ গচ্ছিত রাখার বিষয়ে একটি ইউরোপীয় অভিযাত্রী দল অবগত হয়। তাদের স্বপ্ন ছিল গ্রিনল্যান্ডে তারা একটি অবকাশ কেন্দ্র স্থাপন করবে। এ জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন ছিল। তারা তাদের স্বপ্ন পূরণ করার জন্য মন্দির লুন্ঠন করার মনস্থির করে। অভিযাত্রীরা অস্ত্রে সস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে মন্দির আক্রমণ করে। উপজাতিরা প্রাণপণ লড়াই করেও পরাজিত হয়। অভিযাত্রীরা মন্দির হতে প্রচুর ধন-সম্পদ হস্তগত করে।


 ক. আল বিরুনির সিন্ধু বিজয় সম্বন্দ্বে লিখিত গ্রন্থটির নাম কী? 

খ. হাজি শরিয়তউল্লাহর পরিচয় দাও।

গ. উদ্দীপকের সূর্য দেবতার মন্দির আক্রমণের সাথে সুলতান মাহমুদের কোন অভিযানেরর সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের অর্থনৈতিক দিকটি বিশ্লেষণ কর।


 প্রশ্নের উত্তরঃ-

ক) আল বিরুনির সিন্ধু বিজয় সম্বন্দ্বে লিখিত প্রশ্নটি হলো "কিতাবুল হিন্দ"।


খ) হাজি শরিয়ত উল্লাহ ছিলেন ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ১৭৮১ সালে তালুকদার বংশে জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ শেষে তিনি ১৭৯৯ সালে আরবে গমন করেন এবং পবিত্র হলব্রত পালন করেন। ১৮১৮ সালে তিনি বাংলায় ফিরে এসে বাংলার কুসংস্কারাচ্ছন্ন ও অধঃপতিত মুসলমান সমাজকে জাগ্রত করার লক্ষ্যে ফরায়েজি আন্দোলন নামে ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলন শুরু করেন। ১৮৪০ সালে আন্দোলনরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।


ঘ) উদ্দীপকের অভিযাত্রীদের মন্দির আক্রমণের উদ্দেশ্যের মধ্যে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের অর্থনৈতিক দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। সুলতান মাহমুদ ১০০০-১০২৬ খ্রি. পর্যন্ত মোট ১৭ বার ভারতে অভিযান প্রেরণ করেন। প্রতিটি অভিযানেই তিনি সফল হন। তবে বিজিত কোনো অঞ্চলে তিনি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন নি। বরং এসব অঞ্চল থেকে প্রচুর অর্থ-সম্পদ সংগ্রহ করে তিনি নিজ রাজ্য গজনিতে নিয়ে যান। এটি তার ভারত অভিযানের পেছনে অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যকেই সুস্পষ্ট করে তোলে। গজনির শাসন ব্যবস্থা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং একে সমৃদ্ধিশালী ও আকর্ষণীয় নগরীতে পরিণত করার জন্য একটি বিশাল সেনাবাহিনীকে পোষণের মানসে এবং জ্ঞানবিজ্ঞান ও শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষকতার উদ্দেশ্যে সুলতান মাহমুদের অর্থের প্রয়োজন ছিল। ভারতীয় উপমহাদেশকে তিনি তার প্রয়োজনীয় অর্থের কল্পতরু মনে করে সেখানে ১৭ বার অভিযান পরিচালনা করেন। ভারত হতে সংগৃহীত অর্থ তিনি স্বীয় রাজধানী গজনির উন্নতিকল্পে ব্যয় করেন। কেবল অর্থলোলুপতা চরিতার্থ করার জন্যই সুলতান মাহমুদ ভারতবর্ষে এতবার যুদ্ধাভিযান পরিচালনা করেন। অধ্যাপক হাবিবের মতে, গৌরব ও স্বর্ণের লোভে মাহমুদ ভারতবর্ষে যুদ্ধবিগ্রহ সংঘটন করেন।উদ্দীপকে দেখা যায়, ধন-সম্পদ হস্তগত করার জন্যই ইউরোপীয় অভিযাত্রী দল আফ্রিকার সূর্যদেবতার মন্দির আক্রমণ করে। অর্থাৎ সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের এবং ইউরোপীয় অভিযাত্রীদের সূর্য মন্দির আক্রমণের প্রধান ও মুখ্য বিষয় ছিল অর্থনৈতিক।



উদ্দীপকঃ-

=> ঘটনা-১: শতধাবিভক্ত পার্বত্য অঞ্চল ছিল গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত। কোনো কেন্দ্রীয় শস্তি না থাকায় মি. হাসান অতি সহজেই অত্র অঞ্চল জয় করে মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন। ঘটনা-২: পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ ও জাতিভেদের কারণে নিশ্চিতপুর এলাকায় অশান্তি বিরাজ করছিল। উঁচু। ছিল। উঁচু বর্ণের মানুষের নিপীড়নের কারণে নিম্ন বর্ণের অনেক লোকই ধর্মান্তরিত হয়। ফলে পার্শ্ববর্তী এলাকার রফিক সাহেব অতি সহজেই সেই এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।


ক. তরাইনের প্রথম যুদ্ধ কত খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়?

খ. তরাইনের দ্বিতীয় যুদ্ধ সম্পর্কে লেখো।

গ. ঘটনা-১ এ বর্ণিত হাসান সাহেবের পার্বত্য অঞ্চলে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা ভারতের কোন কোন ঘটনার কথা মনে করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা করো। 

ঘ. ঘটনা-২ এ বর্ণিত রফিক সাহেব যেন মুহাম্মদ ঘুরীর প্রতিচ্ছবি যৌক্তিকভাবে প্রমাণ করো।


 প্রশ্নের উত্তরঃ-


ক) ১১৯১ খ্রিস্টাব্দে তরাইনের প্রথম যুদ্ধ সংঘটিত হয়।


গ) হাসান সাহেবের পার্বত্য অঞ্চলে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার ঘটনা ভারতের মুসলিম সেনাপতি মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু ও মুলতান বিজয়ের কথা মনে করিয়ে দেয়।প্রাক-মুসলিম ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা ছিল বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। তাই শাসকদের মধ্যে কোনো রকম ঐক্য ছিল না। তাই মুসলিম আক্রমণ প্রতিরোধে ভারতের শাসকগণ কোনো শক্তিশালী ঐক্য গড়ে তুলতে পারেননি। তাদের এ অরাজক পরিস্থিতির সুযোগে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নেতৃত্বে ভারতবর্ষে মুসলিম শাসনের ভিত্তি স্থাপিত হয়। হাসান সাহেবের ঘটনায়ও এ বিষয়ের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়। ঘটনা-১ এ আমরা দেখতে পাই যে, শতধাবিভক্ত পার্বত্য অঞ্চলে কোনো কেন্দ্রীয় শস্তি না থাকায় মি. হাসান অতি সহজেই অত্র অঞ্চল জয় করে মুসলিম সাম্রাজ্যের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন। অনুরূপভাবে মুহাম্মদ বিন কাসিমও ভারতের অরাজকতাপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থার কারণে সহজেই সিন্ধু ও মুলতান জয় করতে সক্ষম হন। কেননা মুসলমানদের বিজয়ের প্রাক্কালে ভারতে কোনো রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। ভারতবর্ষ তখন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অনেকগুলো স্বাধীন রাষ্ট্রে বিভত্ত ছিল। একে অন্যের ওপর প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা এবং শক্তি বৃদ্ধির জন্য ক্ষুদ্র এ রাজ্যগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত থাকত। ফলে তাদের রাজনৈতিক ঐক্য ও সংহতি বিনষ্ট হয়েছিল। আর এ বিরোধের কারণে আরবরা সিন্ধু ও মূলতান আক্রমণ করলে সামন্ত নেতারা সিন্ধুর রাজা দাহিরকে কোনো সহযোগিতা করেননি। ফলে সহজেই সিন্ধু মুসলমানদের দখলে আসে। উদ্দীপকের ঘটনা-১-এ এ ঘটনারই প্রতিচ্ছবি।


ঘ) উদ্দীপকে বর্ণিত রফিক সাহেব যেন মুহাম্মদ ঘুরীরই প্রতিচ্ছবি- উক্তিটি যথার্থ।

উদ্দীপকের ঘটনা-২ এ লক্ষ করা যায় যে, পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ, জাতিভেদ প্রথা ও উঁচু বর্ণের মানুষের নিপীড়নের কারণে নিশ্চিতপুর এলাকার নিচু বর্ণের অনেক লোকই ধর্মান্তরিত হয়। ফলে রফিক সাহেব অতিদ্রুত এ অঞ্চলে আধিপত্যা প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন। এ বিষয়গুলোতে মূলত ভারতে মুহাম্মদ ঘুরীর সফল অভিযানের বিষয়ই ফুটে উঠেছে। তৎকালীন ভারতে জাতিভেদ প্রথা ছিল হিন্দু সমাজের মূলভিত্তি।পুরোহিত শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত, হওয়ায় ব্রাহ্মণেরা ছিল উচ্চ মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী। একই ধর্মাবলম্বী হওয়া সত্ত্বেও বৈশ্য ও শূদ্ররা ছিল নির্যাতিত এবং নিষ্পেষিত। তাদের ধর্মীয় শাস্ত্র পাঠ এমনকি শোনারও অধিকার ছিল না। অধ্যাপক হাবিব বলেন, 'ব্রাহ্মণগণ ইচ্ছা করে জনগণকে অম্ল রাখতেন।' দুর্নীতিপরায়ণ ব্রাহ্মণেরা জনসাধারণের দুর্বলতা ও ভীতির সুযোগ নিয়ে কেবল জীবিকা নির্বাহই করতেন না নিজেদের আধিপত্যও প্রতিষ্ঠা করতেন। এ কারণে ভারতে মুসলমানদের আগমন ঘটার পর ইসলামের সুমহান সাম্যের বাণীতে আকৃষ্ট হয়ে নিম্নবর্ণের নির্যাতিত হিন্দুরা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। আবার হিন্দু সমাজের জাতি ও বর্ণভেদ প্রথা ভারতীয় হিন্দুদের মধ্যে ব্যাপক সামাজিক বৈষম্য তৈরি করেছিল। এ সকল কারণে ভারতের জনগণের মধ্যে অভিন্ন জাতীয় চেতনা গড়ে ওঠেনি। এ অবস্থার প্রেক্ষিতেই মুহাম্মদ ঘুরী এ অঞ্চলে নিজের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হন।

ভারতীয় হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রকট আকার ধারণ করলে নিম্নবর্ণের হিন্দুরা ধর্মান্তরিত হতে-শুরু করে। তাছাড়া ভারতীয় জনগণের মধ্যে ঐক্য না থাকায় বহিঃশক্তির আক্রমণ প্রতিহত করার মতো শক্তি তাদের ছিল না। আর এ অবস্থায় মুহাম্মদ ঘুরী ভারত অভিযানে উদ্বুদ্ধ হন এবং ভারত জয় করে স্থায়ী মুসলিম আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেন। তাই যৌক্তিকভাবেই বলা যায়, ঘটনা-২ এর রফিক সাহেবের মাধ্যমে মূলত মুহাম্মদ ঘুরীকেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

Ask2Ans এ আপনাকে সুস্বাগতম, এখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং Ask2An অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পাবেন। এখান থেকে যেমন আপনি জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন তেমনিই এটি ব্যবহার করে আপনার জ্ঞান দিয়ে অপরকে সহায়তা করতে পারবেন। জ্ঞানার্জনের অন্যতম বাংলা প্লাটফর্ম হলো Ask2Ans, আমাদের সাথে থাকুন জ্ঞানঅর্জন করুন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 62 বার প্রদর্শিত
18 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 83 বার প্রদর্শিত
03 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (569 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 90 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 55 বার প্রদর্শিত
17 ডিসেম্বর 2023 "ইসলাম শিক্ষা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 47 বার প্রদর্শিত
25 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (525 পয়েন্ট)
...