আস্ক টু আন্স প্লাটফর্মে আপনাকে স্বাগতম, সমস্যার সমাধান খুঁজতে প্রশ্ন করুন।।
0 টি ভোট
68 বার প্রদর্শিত
"পড়াশোনা" বিভাগে করেছেন (573 পয়েন্ট)

  • কুতুবউদ্দিন আইবককে দ্বিতীয় হাতেম তাই বলা হয় কেন?
  • সুলতান মাহমুদ কতবার ভারত আক্রমণ করেন?
  • সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির নাম কী?
  • ভারতবর্ষকে 'Wealth of India' বলা হয় কেন?
  • সুলতান মাহমুদ মন্দির আক্রমণ করেছেন কেন?
  • সুলতান মাহমুদ কোথাকার সুলতান ছিলেন?

1 উত্তর

0 টি ভোট
করেছেন (573 পয়েন্ট)

উদ্দীপকঃ-


=> তৈমুর লং সমরকন্দের সিংহাসন বসেই দিদ্বিজয়ের নেশায় মেতে ওঠেন। তিনি সিন্তান, হামদান, রাই, ইস্পাহান ফারস, সিরাজ এবং চীনের বিভিন্ন এলাকা দখল করে এবং বিরাট সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি বহু রাজবংশের পতন ঘটিয়ে সেখান থেকে বিলাসবহুল সামগ্রী এনে রাজধানী সমরকন্দকে অনিন্দ্যসুন্দর নগরীতে পরিণত করেন। মধ্য এশিয়ায় একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠাই ছিল তার লক্ষ্য এবং এ জন্য তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ঐ সকল এলাকা দখল করেন।


প্রশ্নঃ- 

ক. সুলতান মাহমুদ কতবার ভারত আক্রমণ করেন?

খ. কুতুবউদ্দিন আইবককে দ্বিতীয় হাতেম তাই বলা হয় কেন?

গ. উদ্দীপকে বর্ণিত তৈমুর লংয়ের অভিযানের সাথে সুলতান মাহমুদের অভিযানের কী মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. উদ্দীপকের আলোকে তৈমুর লং এবং সুলতান মাহমুদের অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্যের তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর।


প্রশ্নের উত্তরঃ- 


ক) সুলতান মাহমুদ ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন।


খ) অসীম উদারতা ও দানশীলতার জন্য কুতুবউদ্দিন আইবেককে দ্বিতীয় হাতেম তাই বলা হতো।

কুতুবউদ্দিন আইবেক ছিলেন একজন মহানুভব সুলতান। তার বদান্যতা কিংবদন্তির পর্যায়ভুক্ত ছিল। প্রতিদিন তিনি লাখ লাখ টাকা দান করতেন বলে তাকে 'লাখবকস' বা লক্ষ টাকা দানকারী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বদান্যতায় তিনি ছিলেন দ্বিতীয় হাতেম তাই।


গ) উদ্দীপকে উল্লিখিত তৈমুর লংয়ের অভিযানের সাথে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যের সাদৃশ্য রয়েছে।

সুলতান মাহমুদ (আফগানিস্তানে অবস্থিত গজনি রাজ্যের শাসনকর্তা) ছিলেন সাহসী ও সমরপ্রিয় বীর। ১০০০ থেকে ১০২৬ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে তিনি মোট ১৭ বার ভারত আক্রমণ করেন। কোনো কোনো ঐতিহাসিক তার এ অভিযানের কারণ হিসেবে সম্পদের প্রতি মোহকে দায়ী করেন। ভারতে পরিচালিত অভিযান থেকে সুলতান মাহমুদ প্রচুর অর্থ-সম্পদ সংগ্রহ করে নিজ রাজ্য গজনির উন্নতিতে ব্যয় করেন। আর উদ্দীপকেও এরূপ ঘটনা লক্ষ করা যায়। উদ্দীপকে দেখা যায়, তৈমুর লং চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযান পরিচালনা করে প্রচুর অর্থ-সম্পদ হস্তগত করেন। এসব সম্পদ তিনি নিজ রাজ্য সমরকন্দের উন্নতিতে ব্যয় করেন। একইভাবে সুলতান মাহমুদ ভারতে অভিযান পরিচালনা করে প্রচুর ধনরত্ব হস্তগত করেন। সুলতান মাহমুদের ষোলোতম অভিযান তথা সোমনাথ মন্দির আক্রমণ এবং সেখান থেকে প্রচুর ধন-সম্পদ লুন্ঠন এ বিষয়টিকেই প্রমাণ করে। ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সোমনাথ মন্দিরে অভিযান পরিচালনা করেন। মন্দিরের পুরোহিত ও স্থানীয় অধিবাসীরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তার আক্রমণ থেকে সোমনাথ মন্দিরকে রক্ষা করতে পারেননি। এ মন্দির থেকে মাহমুদ দু' কোটিরও বেশি স্বর্ণমুদ্রা ও বিগ্রহাদি এবং ২শ মণ অলংকার ও মণিমুক্তা নিয়ে স্বদেশে ফিরে আসেন। তৈমুর লংয়ের সমরকন্দের মতোই গজনি নগরকে সুলতান মাহমুদ অনিন্দ্য সুন্দর নগরীতে পরিণত করেন। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকে উল্লিখিত অক্রমণ ও লুষ্ঠনের ঘটনায় সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানেরই প্রতিফলন ঘটেছে।


ঘ) অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে তৈমুর লংয়ের অভিযানের সাথে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের সাদৃশ্য থাকলেও রাজনৈতিক দিক দিয়ে পার্থক্য রয়েছে।সুলতান মাহমুদ একজন উচ্চাভিলাষী এবং অর্থলোভী সমরনায়ক ছিলেন। রাজ্যাভিযানে তিনি আনন্দ পেলেও তার অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অর্থনৈতিক। নিজ সাম্রাজ্য গজনিকে সমৃদ্ধিশালী ও অনিন্দ্যসুন্দর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তার প্রচুর সম্পদের দরকার ছিল। আর ধন- ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ ভারতকে তিনি তার প্রয়োজনীয় অর্থের কল্পতরু মনে করে এখানে বার বার অভিযান পরিচালনা করেন এবং প্রচুর অর্থ সম্পদ হস্তগত করে গজনির শ্রীবৃদ্ধিতে ব্যয় করেন। তৈমুর। লং এর অভিযানের পেছনেও এ ধরনের উদ্দেশ্য পরিলক্ষিত হলেও তিনি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠর লক্ষ্যে চীনের বিভিন্ন অঞ্চল দখল করেন।

তুর্কি বীর তৈমুর লংয়ের উদ্দেশ্য ছিল বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। তাই তিনি বহু রাজবংশের পতন ঘটিয়ে বিজিত এলাকায় নিজ শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। পাশাপাশি তার বাহিনী বিভিন্ন রাজ্যে অভিযান চালিয়ে প্রচুর সম্পদ লুন্ঠন করে। তৈমুর এ সম্পদ ব্যয় করে সমরকন্দ সাম্রাজ্যের উন্নয়নে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। একইভাবে সুলতান মাহমুদ গজনি রাজ্যকে বিশ্বের তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করার জন্য এর সুসজ্জিতকরণ, নিজ সাম্রাজ্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা, বিরাট সৈন্যবাহিনীর ব্যয় নির্বাহ প্রভৃতি কারণে ভারতে বার বার অভিযান প্রেরণ করেন। অভিযানে সংগৃহীত অর্থ-সম্পদ তিনি সাম্রাজ্যের সার্বিক উন্নতিকল্পে ব্যয় করেন। কিন্তু তিনি একমাত্র পাঞ্জাব ছাড়া বিজিত কোনো অঞ্চলে শাসন প্রতিষ্ঠা করেন নি। অর্থাৎ তার ভারত অভিযানের পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না, অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যেই তিনি ভারত আক্রমণ করেন। উপর্যুক্ত আলোচনায় এটা প্রমাণিত যে, তৈমুর লংয়ের উদ্দেশ্য ছিলো মধ্য এশিয়ায় একটি বিশাল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা। অন্যদিকে সুলতান মাহমুদের ভারত অভিযানের পেছনে এ ধরনের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। তাই বলা যায়, তাদের অভিযানের মধ্যে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সাদৃশ্য থাকলেও রাজনৈতিক দিক দিয়ে বৈসাদৃশ্যতা রয়েছে।


উদ্দীপকঃ-

=> জান্দাল বি ইয়াহিয়া ছিলেন একজন দেশের গভর্নর। তার কঠোর শাসনে দেশটিতে অনেক বিদ্রোহীর জন্ম হয়। এসব বিদ্রোহীরা সীমান্ত পার হয়ে পাশের দেশে আশ্রয় গ্রহণ করে। জান্দাল বিন ইয়াইয়া এসব বিদ্রোহীকে ফেরৎ চাইলে উক্ত দেশটির রাজা ফেরৎ দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ থেকেই উভয় দেশের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়।


প্রশ্নঃ- 

ক. সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপতির নাম কী?

খ. ভারতবর্ষকে 'Wealth of India' বলা হয় কেন?

 গ. উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ আরবদের সিন্ধু বিজয়ের কারণটি ব্যাখ্যা কর।

ঘ. আরবদের সিন্ধু ও মুলতান বিজয় ভারতবর্ষের ইতিহাসে একটি নিষ্ফল বিজয়- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।


প্রশ্নের উত্তরঃ-


ক) সিন্ধু বিজয়ী মুসলিম সেনাপাতির নাম মুহম্মদ বিন কাসিম।


খ) প্রাকৃতিক ধনসম্পদে পরিপূর্ণ থাকায় ভারতবর্ষকে 'Wealth of India' বলা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ ও ঐশ্বর্যের জন্য ভারতবর্ষ বিখ্যাত ছিল। এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পেরও ব্যাপক খ্যাতি ছিল। খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতাব্দীর মধ্যভাগে ভারত ভ্রমণকারী চীনা পর্যটক ফা হিয়েন ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির বিবরণ দিয়েছেন। অর্থাৎ বিপুল ঐশ্বর্যের জন্য ভারত বর্ষকে Wealth of India বলা হয়।


গ) উদ্দীপকের সাথে সংগতিপূর্ণ আরবদের সিন্ধু বিজয়ের কারণটি হলো হাজ্জাজ বিন ইউসুফের বিদ্রোহীদেরকে রাজা দাহিরের আশ্রয় দান।

আরবদের সিন্ধু অভিযান আকস্মিক কোনো ঘটনা নয়। নানা ঘটনা ও পরিস্থিতি আরবীয়দের সিন্ধু অভিযানে প্ররোচিত করেছিল।এই অভিযানের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল সিন্ধুর দেবলাস্থ বন্দরে উপঢৌকনসহ ৮টি মুসলিম জাহাজ লুন্ঠন। তবে পরোক্ষ নানা ঘটনা উমাইয়া খলিফা আল ওয়ালিদ ও তার পূর্বাঞ্চলীয় শাসনকর্তা হাজ্জাজ বিন ইউসুফকে সিন্ধু অভিযানে বাধ্য করেছিল, যার একটি ঘটনা উদ্দীপকে প্রতিফলিত হয়েছে।উদ্দীপকে দেখা যায়, গভর্নর জান্দাল বিন ইয়াহিয়ার দেশের বিদ্রোহীরা পার্শ্ববর্তী দেশে আশ্রয় নিলে গভর্নর তাদেরকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু পার্শ্ববর্তী দেশের রাজা তা অগ্রাহ্য করলে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। একইভাবে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কঠোর শাসনের প্রতিবাদে কতিপয় বিদ্রোহীরা বিদ্রোহ করে আরব সীমান্ত অতিক্রম করে সিন্ধুরাজ দাহিরের কাছে আশ্রয় গ্রহণ করে। হাত্মাজ তাদেরকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানালে দাবির তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে হাজ্জাজ ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে সমুচিত শাস্তি দিতে সিম্মু ও মুলতানে অভিযান পরিচালনা করেন। সুতরাং দেখা যায় উদ্দীপকের ঘটনায় আরবদের সিন্ধু বিজয়ের উল্লিখিত কারণেই প্রতিফলন ঘটেছে।


ঘ) সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফলকে নিষ্ফল বিজয় বলা যথাযথ হবে না। কারণ মুহাম্মদ বিন কাসিমের মৃত্যুর পর সিন্ধু ও মুলতানে আরব শাসন দেড়শ বছর স্থায়ী হয়েছিল।

মুহাম্মদ বিন কাসিমের পদাঙ্ক অনুসরণ করেই সুলতান মাহমুদ ও মুহাম্মদ ঘুরি ভারতে তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সিন্তু বিজয়ের পর আরব সৈন্যদের মধ্যে অনেকেই স্থায়ীভাবে ভারতে বসতি স্থাপন করে। বিজিত অঞ্চলে বহু রাস্তাঘাট নির্মাণ করেছিলেন তাদের কীর্তি আজও বিদ্যমান। ইতিহাসবিদ টড 'রাজস্থানের ইতিহাস' গ্রন্থে আরবদের সিন্ধু বিজয়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। সিন্ধু বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফল নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এর ধর্মীয় ফলাফল ছিল খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ বিজয়ের ফলে অসংখ্য পির-দরবেশ ভারত উপমহাদেশে ধর্ম প্রচারের জন্যে আগমন করেন; যাদের প্রভাবে সাম্য, মৈত্রী, উদারতা ও সহিষ্ণুতার প্রতীক ইসলাম ধর্মে দলে দলে নির্যাতিত সম্প্রদায় যোগদান করতে থাকে।সিন্ধু ও মুলতানে আরব প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হবার পর আরবদের সাথে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে আরবগণ সর্বপ্রথম হিন্দু সম্প্রদায়ের নিবিড় সংস্পর্শে আসার সুযোগ পায়। ফলে উভয়ের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়। সমঝোতা ও আর্য ও সেমেটিক জাতির এ মহামিলন ভারতবর্ষে নতুন সমাজব্যবস্থার সৃষ্টি করে। আরবদের কল্যাণমুখী শাসন, ধর্মীয় স্বাধীনতা, ধর্মীয় উপাসনালয়গুলো সংরক্ষণ উভয়ের মধ্যে আস্থার সৃষ্টি করে। প্রকৃতপক্ষে হিন্দু-মুসলিমের এ সহাবস্থানই পরবর্তীতে ভারতে নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছিল।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে আমরা একথা নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে, আরবদের সিন্ধু অভিযান কোনো নিষ্ফল বিজয় নয়।


উদ্দীপকঃ-

=> সিংহজানির রাজা জামালপুরের শাসনকর্তার নিকট ৮ ট্রাক উপহার সামগ্রী পাঠান। কিন্তু নন্দীপুরের নিকট দিয়ে আসার সময় ডাকাতেরা ট্রাকের মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। জামালপুরের শাসনকর্তা মির্জা মনি ডাকাতদের প্রত্যার্পণ অথবা লুটকৃত মালামাল ফেরত দিতে নন্দীপুরের রাজা নন্দলালের নিকট দূত পাঠান। নন্দীপুরের রাজা এতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলে জামালপুরের শাসনকর্তা নন্দীপুর দখল করার জন্য সেনাপতি প্রেরণ করেন এবং ইহা দখল করেন। 


প্রশ্নঃ-

ক. সুলতান মাহমুদ কোথাকার সুলতান ছিলেন?

খ. সুলতান মাহমুদ মন্দির আক্রমণ করেছেন কেন?

গ. উদ্দীপকের সাথে তোমার পাঠ্য বই এর কোন বিষয়ের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আছে? সংক্ষেপে বিজয়ের কারণগুলো লিখ।

ঘ. উক্ত বিজয় কী নিষ্ফল বিজয় ছিল? বিশ্লেষণ কর।


প্রশ্নের উত্তরঃ- 


ক) সুলতান মাহমুদ আফগানিস্তানের গজনীর সুলতান ছিলেন।


খ) সুলতান মাহমুদ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেছেন বলে ঐতিহাসিকরা মনে করেন। ভারতের গুজরাটের কাথিওয়াড়ে অবস্থিত সোমনাথ মন্দির ছিল ধনৈশ্বর্যে পরিপূর্ণ। মুসলিম ঐতিহাসিকদের বিবরণ মতে, মন্দিরের পুরোহিতদের ধারণা ছিল এ মন্দির বিজয় মাহমুদের সাধ্যের বাইরে। সুলতান মাহমুদ তাই ১২২৬ সালে এই মন্দিরে অভিযান চালিয়ে সফল হন। অন্যান্য মন্দির আক্রমণের পিছনেও অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কারণ ছিল প্রধান।


গ) উদ্দীপকের সাথে আমার পাঠ্য বইয়ের সিন্ধু বিজয়ের ঘটনার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আছে। ইতিহাস পাঠে জানা যায়, সিংহলের রাজা ৮টি উপঢৌকনপূর্ণ জাহাজ খলিফা ওয়ালিদ ও হাজ্জাজের উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেন। সিন্দুর দেবল বন্দরে জলদস্যু কর্তৃক জাহাজগুলোর মালামাল লুন্ঠন হয় হাজ্জাজ সিন্ধুর রাজা দাহিরের নিকট এর প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করলে দাহির সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ফলে হাজ্জাজ তার সেনাপতি প্রেরণ। করে সিন্ধু অধিকার করেন।উদ্দীপকের লুন্ঠন এর ঘটনা এবং তার জবাবে সামরিক অভিযানের বিষয়টি সিন্ধু জয়ের ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কিন্তু উদ্দীপকে যে ট্রাক। ও ডাকতের কথা বলা হয়েছে তা বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। ইতিষ্যসে ট্রাক ও ডাকাতের স্থলে যথাক্রমে জাহাজ ও জলদস্যুর উল্লেখ পাই।এছাড়া ইতিহাসে সিন্ধু জয়ের ঘটনার পাঠে দেখা যায় হাজ্জাজ এর পাঠানো সেনাপতিরা প্রথম দুটি অভিযানে ব্যর্থ হয়। তৃতীয় অভিযানে মুহাম্মদ বিন কাসিম সিন্ধু দখলে সক্ষম হন।

কাজেই সিন্ধু বিজয়ের উপর্যুক্ত ঘটনার সাথেই উদ্দীপকের সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য আছে।


ঘ) উক্ত বিজয় তথা আরবদের সিন্ধু বিজয় সম্পর্কে স্টেনলি লেনথুল বলেন, "আরবগণ সিন্ধু জয় করেছিল। কিন্তু ভারতবর্ষ ও ইসলামের ইতিহাসে এ বিজয় ছিল একটি উপাখ্যান মাত্র, একটি নিষ্ফল বিজয়।"

সিম্মু ও সুলতান বিজয়ের রাজনৈতিক ফলাফল পর্যালোচনা করলে লেনপুলের উপরিউক্ত মন্তব্য সত্য বলে প্রতীয়মান হয়। ঐতিহাসিক ঈশ্বরী প্রসাদ এই সত্য স্বীকার করেছেন। কেননা আরব প্রভাব শুধু সিন্ধু ও সুলমানেই সীমাবদ্ধ ছিল। ভারতের আর কোন স্থানে আরব প্রভাব ছিল না। মুহাম্মদ বিন কাসিমের অকাল মৃত্যু, খলিফাদের বৈদেশিক নীতির পরিবর্তন, মুসলিমদের ঐক্য বিনষ্ট ও উত্তর ভারতে শক্তিশালী রাজপুত, গুর্জর-প্রতিহারদের উত্থান ইত্যাদি মুসলিম অগ্রযাত্রার পথরোধ করে। ফলে সিন্ধু বিজয়ের মাধ্যমে ভারতে কোন স্থায়ী মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে, এ এল শ্রী বাস্তব, টমাস আরনওসহ কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন আরবদের সিন্ধু বিজয়ের ফলে ভারতে ইসলাম ধর্মের প্রসার ঘটেছিল। ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সিন্ধু বিজয় পরোক্ষ ভূমিকা পালন করেছিল একথা অনস্বীকার্য। তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে এই বিজয়ের সফলতা পরিদৃষ্ট হয় না।

পরিশেষে বলা যায় যে, উত্ত বিজয় তথা আরবদের সিন্ধু বিজয় ছিল অনেকাংশেই নিষ্ফল বিজয়। তবে এই বিজয়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রভাব অস্বীকার করা যায় না।

Ask2Ans এ সুস্বাগতম, যেখানে আপনি প্রশ্ন করতে পারবেন এবং গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের নিকট থেকে উত্তর পেতে পারবেন।

সম্পর্কিত প্রশ্নগুচ্ছ

0 টি ভোট
1 উত্তর 17 বার প্রদর্শিত
10 ফেব্রুয়ারি "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Admin (513 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 57 বার প্রদর্শিত
0 টি ভোট
1 উত্তর 61 বার প্রদর্শিত
11 জানুয়ারি "বিজ্ঞান" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (573 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 29 বার প্রদর্শিত
18 ডিসেম্বর 2023 "বাংলা সাহিত্য" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (573 পয়েন্ট)
0 টি ভোট
1 উত্তর 43 বার প্রদর্শিত
17 ডিসেম্বর 2023 "পড়াশোনা" বিভাগে জিজ্ঞাসা করেছেন Hasib (573 পয়েন্ট)
...